বিজ্ঞান শিক্ষার উদ্দেশ্য ...

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সুপ্ত মানুষ্যত্বের জাগরণ; সৎ ও অসত্যের এবং ভালো ও মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করে আত্মোপলব্ধি। বিজ্ঞান শিক্ষা একটি বিশেষ ধরনের শিক্ষা হলেও শিক্ষার মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়; বরং কোনো কিছু বিশেষরূপে জানার অর্থই যদি হয় বিজ্ঞান তো বিজ্ঞান শিক্ষার অর্থ এমন এক শিক্ষা যা মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষরূপে জানতে সহায়তা করে। আবার এই জানা ব্যাপারটি একদিকে যেমন জ্ঞানের পরিপোষক, অন্যদিকে তেমনি জ্ঞানের বিনাশক। অতএব, বিজ্ঞান শিক্ষা বলতে এমন এক শিক্ষা বোঝায়, যা আমাদের জ্ঞানান্ধকার দূর করে যথার্থ জ্ঞানের আভাস দেয় এবং মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটিয়ে আত্মোপলব্ধি তথা বিশ্বজগতের স্বরূপ উপলব্ধিতে সহায়তা করে।জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানকল্পে মানুষ একদা বিজ্ঞানচর্চা শুরু করেছিল। বিজ্ঞানের কল্যাণ মূর্তিতে বিমুগ্ধ মানুষ সেদিন পরম বন্ধুর মতো বরণ করে নিয়েছিল তাকে। বিজ্ঞানের হাত ধরে মানুষ সেদিন পেয়েছিল জীবনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি, পেয়েছিল জীবনের সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের আশ্বাস। মানুষ সেদিন বিজ্ঞানকে জিবনযাত্রার সহচর করে জীবনকে করে তুলছিল সহজ এবং স্বাভাবিক। বিজ্ঞানের এই উদ্দেশ্য ও বিশিষ্টতাকে মেনে নিলে সকল দেশে সর্বকালে এর উপযোগিতাকে মানতে হয়। যুগে যুগে মানুষ কমবেশি পরিনাণে তা মেনেও নিয়েছে। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের যেমন উন্নতি ঘটছে, বিজ্ঞান শিক্ষাও তেমনি হয়েছে সম্প্রসারিত। মানুষ শিখেছে যে, জ্ঞানজগৎ পারাবার অতিক্রমণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তরণী এবং জগৎ রহস্যের স্বরূপ অন্বেষণে আগ্রহী না হলে স্ব স্ব চৈতন্যের বিকাশও অসম্ভব। মানুষের এই গভীর গোপন অনুভূতিই তাকে বিজ্ঞান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করেছে এবং দেশে দেশে, কালে কালে মানুষ একদিকে বাহ্যিক প্রয়োজনে অন্যদিকে অন্তর্নিহিত প্রেরণার তাগিদে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। বিজ্ঞান আমাদের শিক্ষা দেয়- যে শিক্ষা ধারাবাহিক বিশ্লেষণপন্থী ও বাস্তবসম্মত। একটি বাস্তব কার্যকরণ নিয়মের আবিষ্কার বিজ্ঞানের কাজ। কেন হচ্ছে, কী জন্য হচ্ছে, বিজ্ঞানই তা বলে দিতে পারে। বিজ্ঞানের ব্যাপক বিস্তারে, বিকাশে, রূপদানে যেকোনো জাতি বা দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি নির্ভর করে। কেবল ছোট বড় কলকারখানা গড়ে তোলা বিজ্ঞানের কাজ নয়, কৃষির উন্নতির জন্যও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে। চাষাবাদের উন্নতির জন্য, নদীর ধারা নিয়ন্ত্রণের জন্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কুসংস্কার দূরীভূত, বেকারত্বের লাঘব ইত্যাদির জন্য বিজ্ঞানের সাহায্য গ্রহণ করা হয়। কাজেই বিজ্ঞান শিক্ষার ‍উদ্দেশ্য অনেক।দেশ ও জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নানা ধরণের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে। উন্নয়নশীল একটি দেশের জন্য প্রচুর ডাক্তার, প্রকৌশলী যেমন দরকার, তেমনি দরকার কৃষিবিজ্ঞানী ও পশুবিজ্ঞানী। তবে মনে রাখা দরকার যে, সাধারণ বিজ্ঞান শিক্ষা সবাই পারে, কিন্তু কারিগারি বিজ্ঞান শিক্ষার আয়োজন করতে হবে দেশের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ রেখে। উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণাও এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে একদিকে তা দেশের কল্যাণ বিধানে সমর্থ হয় এবং অন্যদিকে বিদেশের কাছে স্বদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে। উপযুক্ত কাজ না পেয়ে বিজ্ঞান বিদ্যায় উচ্চ শিক্ষিত বহু ব্যক্তি আজ যে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে, বিদেশে পড়ালেখা শেষ করে আর দেশে ফিরে আসছে না, এটা দেশ এবং জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর ও ক্ষতিকর। বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষিতরা যেমন স্বদেশের কথা ভাবে না, দেশও তেমনি তাদের কথা ভাবে না। অর্থাৎ দেশের সঙ্গে তাদের আত্মিক যোগসূত্রটি যেমন, তেমনি দেশের বৈষয়িক অগ্রগতির পথটিও অবলীলাক্রমে বিঘ্নিত হয়।সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রভব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিজ্ঞানের সঙ্গে সামান্যতম পরিচিত চাষী মাত্রই জানেন যে, সময়মত বৃষ্টি না হলে অদৃষ্টকে ধিক্কার দিতে দিতে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে লাভ নেই। তার চেয়ে কৃত্রিম উপায়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করা বুদ্ধিমানের কাজ। সত্য বলতে কি, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের কৃষকদের মধ্যে উপযুক্ত বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তর আনতে পারে। উন্নত বীজ, উপযুক্ত সার, কীটনাশক ওষুধ এবং এক কথায় বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ সম্পর্কে তারা যদি শিক্ষা পায় তাহলে প্রকৃত কৃষিবিপ্লব অচিরেই ঘটানো সম্ভব। কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কিছুটা বিজ্ঞান শিক্ষা কাজের খাতিরেই অর্জন করতে হয়। কিন্তু সে শিক্ষা এর বেশিরভাগই যেহেতু যান্ত্রিক বা হাতে কলমে, তাত্ত্বিক সত্যের নিরিখে নয়, তাই প্রকৃত বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হবার সুযোগ এদেশের অধিকাংশ শিল্পশ্রমিকই পায় না। এর ফলে এরা কখনো বা দুর্ঘটনায় সহজে শিকার হয়, আবার কখনো বা বহু বিচিত্র ভুল অভ্যাস ও ধারণাকে প্রশ্রয় দিয়ে নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনে। বিজ্ঞান শিক্ষার উপযোগিতা মধ্যবিত্ত সমাজেও যথেষ্ট। মধ্যবিত্ত ঘরের একজন কলা বিভাগের স্নাতক পরীক্ষায় ভালো ফলই করুক না কেন বিজ্ঞান বিষয়ে অন্তত সাধারণ শিক্ষা যদি তার না থাকে তাহলে বলতে হবে, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ। ধনী বা উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা টাকার জোরে অনেক কিছুই করতে পারে, এমনকি দেশ-বিদেশে গিয়ে সস্তায় ডিগ্রি সংগ্রহ করাও কঠিন কিছু নয়।বিজ্ঞান শিক্ষার রয়েছে নানা স্তর। উচ্চতর, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক। বিজ্ঞান সম্পর্কে অন্তত প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন না করলে এ যুগে শিক্ষাই অসম্পূর্ণ থাকে। ব্যক্তিগত জীবনে যেমন সমাজজীবনেও তেমনি মানুষ তার যথার্থ ভূমিকা পালনে অক্ষম হয়। স্বাস্থ্যরক্ষার সাধারণ বিধিনিয়মগুলো যে জানে না, খাদ্যের গুণাগুণ বা রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সম্পর্কে যার কোনো ধারণা নেই, নাগরিক হিসেবে নিশ্চয় সে দায়িত্বশীল হতে পারে না। বিজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকলে নানাদিক দিয়ে সুবিধা। কেউ রোগের যন্ত্রণায় বা সাময়িক স্নায়ু বৈকল্যের ফলে ভুল বকলে ওঝা ডাকতে হয় না, অষ্টগ্রহ সম্মেলন বা স্কাইল্যাব বা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণকে উপলক্ষ করে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় না, শুধু তাবিজ বা মাদুলিকে সম্বল করে নিজেকে দৈবের হাতে সঁপে দিতে হয় না। এছাড়া বিজ্ঞান সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা যাদের আছে, অর্থাৎ যারা মাধ্যমিক পর্যায়ের বিজ্ঞান শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করেছেন তারা তো এক হিসেবে ভাগ্যবান। তারা বিশ্বজগতের মধ্যে নিয়মের সূত্র অনুধাবন করেন, জগৎ-সংসারের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্কে আবিষ্কার করেন এবং সবচেয়ে বড় কথা, জগৎ-সংসারের স্বরূপ উপলব্ধির ব্যাপারে অনেকখানি জানেন। উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। যারা যোগ্য এবং যথার্থই আগ্রহী, শুধু তারাই এই শিক্ষা লাভের সুযোগ পান। উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষকে নব নব আবিষ্কারের উদ্বুদ্ধ করে দেশ ও জাতি গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবে যুগে যুগে সমাজ ও সভ্যতার অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। সাগরে সন্তান বিসর্জন এবং সতীদাগের কথা ছেড়ে দিলেও বর্তমান যুগে দেবীকে প্রসন্ন করার বাসনায় নরবলির কথা বা ’সজ্ঞানে গঙ্গালাভ’-এর আশায় মুমূর্ষু রোগীকে গঙ্গা তীরে নিয়ে গিয়ে বুক সমান পানিতে ডুবিয়ে রাখা, আল্লাহকে খুশি করতে নিজের সন্তানকে কোরবানি করা সবাই বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা। ডাইনী ভেবে কল্যাণময়ী আর্ককে একদিন পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আজো ডাইনী সংবাদ শোনা যায়। আজো দেখা যায় ভূতপ্রেতের অস্তিত্ব স্বীকার করে ঝাড়-ফুঁকের আশ্রয় নেওয়ার দৃশ্য। বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবেই এমন উদ্ভট ধারণা পোষণ করছে মানুষ আর ভোগ করছে তার কুফল। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষকে যুক্তিনিষ্ঠ ও বিচারশীল করে। অন্ধ আবেগ, ভুল বিশ্বাস ও সর্বনাশা মূর্খতার কবল থেকে বাঁচায়। বিজ্ঞান শিক্ষার গুণে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, চিন্তা-ভাবনা ও বোধশক্তির উন্নতি হয় এবং সবচেয়ে বড় কথা, সত্যোপলব্ধির পথে সে অনেক দূর এগিয়ে যায়। বিজ্ঞান শিক্ষা কুসংস্কারের বড় শত্রু। ’নজর’ লেগে ছেলে রোগা হয় বা গাছ মরে যায়, সামান্য পরিমাণেও যারা বিজ্ঞান শিক্ষা অর্জন করেছেন, নিশ্চয় তারা এসব কুসংস্কারে কান দেন না, বিশ্বাস করেন না। এছাড়া দেহের কোন একটি স্থানে টিকটিকি পড়লে অর্থাগম, হাঁচি-কাশির সাথে উন্নত-অবনতির সম্পর্ক, স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত বিশেষ কোন দৈবীর দৈব ক্ষমতা বিজ্ঞান শিক্ষা তে শিক্ষিতদের কাছে এর কোনো গুরুত্ব নেই। ধর্মের নামে গোঁড়ামিকে যারা প্রশ্রয় দেয়, প্রকৃত বিজ্ঞান শিক্ষা তাদেরও চৈতন্য জাগরণে সাহায্য করে । বিজ্ঞান শিক্ষা এর উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য সরকারের উদ্যোগই প্রধান। কৃষকদেরকে, শ্রমিকদেরকে বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞানদানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলার আয়োজন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সরকারের পাশাপশি বেসরকারি সামাজিক সংগঠনগুলোরও এগিয়ে আসতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে আগে আমাদের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। এদেশের কোটি কোটি মানুষ এখনো জগৎসংসার সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমাদের মনে রাখতে হবে, জাতির বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাদ দিয়ে মুষ্টিমেয় লোক বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই দেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে এবং যথাসম্ভব আর্থিক দিক থেকে সহজলভ্য করতে হবে বিজ্ঞান শিক্ষাকে।
Romanized Version
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সুপ্ত মানুষ্যত্বের জাগরণ; সৎ ও অসত্যের এবং ভালো ও মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করে আত্মোপলব্ধি। বিজ্ঞান শিক্ষা একটি বিশেষ ধরনের শিক্ষা হলেও শিক্ষার মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়; বরং কোনো কিছু বিশেষরূপে জানার অর্থই যদি হয় বিজ্ঞান তো বিজ্ঞান শিক্ষার অর্থ এমন এক শিক্ষা যা মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষরূপে জানতে সহায়তা করে। আবার এই জানা ব্যাপারটি একদিকে যেমন জ্ঞানের পরিপোষক, অন্যদিকে তেমনি জ্ঞানের বিনাশক। অতএব, বিজ্ঞান শিক্ষা বলতে এমন এক শিক্ষা বোঝায়, যা আমাদের জ্ঞানান্ধকার দূর করে যথার্থ জ্ঞানের আভাস দেয় এবং মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটিয়ে আত্মোপলব্ধি তথা বিশ্বজগতের স্বরূপ উপলব্ধিতে সহায়তা করে।জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানকল্পে মানুষ একদা বিজ্ঞানচর্চা শুরু করেছিল। বিজ্ঞানের কল্যাণ মূর্তিতে বিমুগ্ধ মানুষ সেদিন পরম বন্ধুর মতো বরণ করে নিয়েছিল তাকে। বিজ্ঞানের হাত ধরে মানুষ সেদিন পেয়েছিল জীবনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি, পেয়েছিল জীবনের সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের আশ্বাস। মানুষ সেদিন বিজ্ঞানকে জিবনযাত্রার সহচর করে জীবনকে করে তুলছিল সহজ এবং স্বাভাবিক। বিজ্ঞানের এই উদ্দেশ্য ও বিশিষ্টতাকে মেনে নিলে সকল দেশে সর্বকালে এর উপযোগিতাকে মানতে হয়। যুগে যুগে মানুষ কমবেশি পরিনাণে তা মেনেও নিয়েছে। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের যেমন উন্নতি ঘটছে, বিজ্ঞান শিক্ষাও তেমনি হয়েছে সম্প্রসারিত। মানুষ শিখেছে যে, জ্ঞানজগৎ পারাবার অতিক্রমণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তরণী এবং জগৎ রহস্যের স্বরূপ অন্বেষণে আগ্রহী না হলে স্ব স্ব চৈতন্যের বিকাশও অসম্ভব। মানুষের এই গভীর গোপন অনুভূতিই তাকে বিজ্ঞান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করেছে এবং দেশে দেশে, কালে কালে মানুষ একদিকে বাহ্যিক প্রয়োজনে অন্যদিকে অন্তর্নিহিত প্রেরণার তাগিদে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। বিজ্ঞান আমাদের শিক্ষা দেয়- যে শিক্ষা ধারাবাহিক বিশ্লেষণপন্থী ও বাস্তবসম্মত। একটি বাস্তব কার্যকরণ নিয়মের আবিষ্কার বিজ্ঞানের কাজ। কেন হচ্ছে, কী জন্য হচ্ছে, বিজ্ঞানই তা বলে দিতে পারে। বিজ্ঞানের ব্যাপক বিস্তারে, বিকাশে, রূপদানে যেকোনো জাতি বা দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি নির্ভর করে। কেবল ছোট বড় কলকারখানা গড়ে তোলা বিজ্ঞানের কাজ নয়, কৃষির উন্নতির জন্যও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে। চাষাবাদের উন্নতির জন্য, নদীর ধারা নিয়ন্ত্রণের জন্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কুসংস্কার দূরীভূত, বেকারত্বের লাঘব ইত্যাদির জন্য বিজ্ঞানের সাহায্য গ্রহণ করা হয়। কাজেই বিজ্ঞান শিক্ষার ‍উদ্দেশ্য অনেক।দেশ ও জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নানা ধরণের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে। উন্নয়নশীল একটি দেশের জন্য প্রচুর ডাক্তার, প্রকৌশলী যেমন দরকার, তেমনি দরকার কৃষিবিজ্ঞানী ও পশুবিজ্ঞানী। তবে মনে রাখা দরকার যে, সাধারণ বিজ্ঞান শিক্ষা সবাই পারে, কিন্তু কারিগারি বিজ্ঞান শিক্ষার আয়োজন করতে হবে দেশের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ রেখে। উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণাও এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে একদিকে তা দেশের কল্যাণ বিধানে সমর্থ হয় এবং অন্যদিকে বিদেশের কাছে স্বদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে। উপযুক্ত কাজ না পেয়ে বিজ্ঞান বিদ্যায় উচ্চ শিক্ষিত বহু ব্যক্তি আজ যে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে, বিদেশে পড়ালেখা শেষ করে আর দেশে ফিরে আসছে না, এটা দেশ এবং জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর ও ক্ষতিকর। বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষিতরা যেমন স্বদেশের কথা ভাবে না, দেশও তেমনি তাদের কথা ভাবে না। অর্থাৎ দেশের সঙ্গে তাদের আত্মিক যোগসূত্রটি যেমন, তেমনি দেশের বৈষয়িক অগ্রগতির পথটিও অবলীলাক্রমে বিঘ্নিত হয়।সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রভব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিজ্ঞানের সঙ্গে সামান্যতম পরিচিত চাষী মাত্রই জানেন যে, সময়মত বৃষ্টি না হলে অদৃষ্টকে ধিক্কার দিতে দিতে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে লাভ নেই। তার চেয়ে কৃত্রিম উপায়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করা বুদ্ধিমানের কাজ। সত্য বলতে কি, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের কৃষকদের মধ্যে উপযুক্ত বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তর আনতে পারে। উন্নত বীজ, উপযুক্ত সার, কীটনাশক ওষুধ এবং এক কথায় বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ সম্পর্কে তারা যদি শিক্ষা পায় তাহলে প্রকৃত কৃষিবিপ্লব অচিরেই ঘটানো সম্ভব। কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কিছুটা বিজ্ঞান শিক্ষা কাজের খাতিরেই অর্জন করতে হয়। কিন্তু সে শিক্ষা এর বেশিরভাগই যেহেতু যান্ত্রিক বা হাতে কলমে, তাত্ত্বিক সত্যের নিরিখে নয়, তাই প্রকৃত বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হবার সুযোগ এদেশের অধিকাংশ শিল্পশ্রমিকই পায় না। এর ফলে এরা কখনো বা দুর্ঘটনায় সহজে শিকার হয়, আবার কখনো বা বহু বিচিত্র ভুল অভ্যাস ও ধারণাকে প্রশ্রয় দিয়ে নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনে। বিজ্ঞান শিক্ষার উপযোগিতা মধ্যবিত্ত সমাজেও যথেষ্ট। মধ্যবিত্ত ঘরের একজন কলা বিভাগের স্নাতক পরীক্ষায় ভালো ফলই করুক না কেন বিজ্ঞান বিষয়ে অন্তত সাধারণ শিক্ষা যদি তার না থাকে তাহলে বলতে হবে, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ। ধনী বা উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা টাকার জোরে অনেক কিছুই করতে পারে, এমনকি দেশ-বিদেশে গিয়ে সস্তায় ডিগ্রি সংগ্রহ করাও কঠিন কিছু নয়।বিজ্ঞান শিক্ষার রয়েছে নানা স্তর। উচ্চতর, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক। বিজ্ঞান সম্পর্কে অন্তত প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন না করলে এ যুগে শিক্ষাই অসম্পূর্ণ থাকে। ব্যক্তিগত জীবনে যেমন সমাজজীবনেও তেমনি মানুষ তার যথার্থ ভূমিকা পালনে অক্ষম হয়। স্বাস্থ্যরক্ষার সাধারণ বিধিনিয়মগুলো যে জানে না, খাদ্যের গুণাগুণ বা রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সম্পর্কে যার কোনো ধারণা নেই, নাগরিক হিসেবে নিশ্চয় সে দায়িত্বশীল হতে পারে না। বিজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকলে নানাদিক দিয়ে সুবিধা। কেউ রোগের যন্ত্রণায় বা সাময়িক স্নায়ু বৈকল্যের ফলে ভুল বকলে ওঝা ডাকতে হয় না, অষ্টগ্রহ সম্মেলন বা স্কাইল্যাব বা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণকে উপলক্ষ করে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় না, শুধু তাবিজ বা মাদুলিকে সম্বল করে নিজেকে দৈবের হাতে সঁপে দিতে হয় না। এছাড়া বিজ্ঞান সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা যাদের আছে, অর্থাৎ যারা মাধ্যমিক পর্যায়ের বিজ্ঞান শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করেছেন তারা তো এক হিসেবে ভাগ্যবান। তারা বিশ্বজগতের মধ্যে নিয়মের সূত্র অনুধাবন করেন, জগৎ-সংসারের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্কে আবিষ্কার করেন এবং সবচেয়ে বড় কথা, জগৎ-সংসারের স্বরূপ উপলব্ধির ব্যাপারে অনেকখানি জানেন। উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। যারা যোগ্য এবং যথার্থই আগ্রহী, শুধু তারাই এই শিক্ষা লাভের সুযোগ পান। উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষকে নব নব আবিষ্কারের উদ্বুদ্ধ করে দেশ ও জাতি গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবে যুগে যুগে সমাজ ও সভ্যতার অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। সাগরে সন্তান বিসর্জন এবং সতীদাগের কথা ছেড়ে দিলেও বর্তমান যুগে দেবীকে প্রসন্ন করার বাসনায় নরবলির কথা বা ’সজ্ঞানে গঙ্গালাভ’-এর আশায় মুমূর্ষু রোগীকে গঙ্গা তীরে নিয়ে গিয়ে বুক সমান পানিতে ডুবিয়ে রাখা, আল্লাহকে খুশি করতে নিজের সন্তানকে কোরবানি করা সবাই বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা। ডাইনী ভেবে কল্যাণময়ী আর্ককে একদিন পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আজো ডাইনী সংবাদ শোনা যায়। আজো দেখা যায় ভূতপ্রেতের অস্তিত্ব স্বীকার করে ঝাড়-ফুঁকের আশ্রয় নেওয়ার দৃশ্য। বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবেই এমন উদ্ভট ধারণা পোষণ করছে মানুষ আর ভোগ করছে তার কুফল। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষকে যুক্তিনিষ্ঠ ও বিচারশীল করে। অন্ধ আবেগ, ভুল বিশ্বাস ও সর্বনাশা মূর্খতার কবল থেকে বাঁচায়। বিজ্ঞান শিক্ষার গুণে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, চিন্তা-ভাবনা ও বোধশক্তির উন্নতি হয় এবং সবচেয়ে বড় কথা, সত্যোপলব্ধির পথে সে অনেক দূর এগিয়ে যায়। বিজ্ঞান শিক্ষা কুসংস্কারের বড় শত্রু। ’নজর’ লেগে ছেলে রোগা হয় বা গাছ মরে যায়, সামান্য পরিমাণেও যারা বিজ্ঞান শিক্ষা অর্জন করেছেন, নিশ্চয় তারা এসব কুসংস্কারে কান দেন না, বিশ্বাস করেন না। এছাড়া দেহের কোন একটি স্থানে টিকটিকি পড়লে অর্থাগম, হাঁচি-কাশির সাথে উন্নত-অবনতির সম্পর্ক, স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত বিশেষ কোন দৈবীর দৈব ক্ষমতা বিজ্ঞান শিক্ষা তে শিক্ষিতদের কাছে এর কোনো গুরুত্ব নেই। ধর্মের নামে গোঁড়ামিকে যারা প্রশ্রয় দেয়, প্রকৃত বিজ্ঞান শিক্ষা তাদেরও চৈতন্য জাগরণে সাহায্য করে । বিজ্ঞান শিক্ষা এর উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য সরকারের উদ্যোগই প্রধান। কৃষকদেরকে, শ্রমিকদেরকে বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞানদানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলার আয়োজন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সরকারের পাশাপশি বেসরকারি সামাজিক সংগঠনগুলোরও এগিয়ে আসতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে আগে আমাদের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। এদেশের কোটি কোটি মানুষ এখনো জগৎসংসার সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমাদের মনে রাখতে হবে, জাতির বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাদ দিয়ে মুষ্টিমেয় লোক বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই দেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে এবং যথাসম্ভব আর্থিক দিক থেকে সহজলভ্য করতে হবে বিজ্ঞান শিক্ষাকে।Shikshar Prakrit Uddeshya Supta Manushyatber Jagran St O Asatyer Evan Valu O Mandera Parthakya Nirnay Kare Atmopalabdhi Bigyan Siksha Ekati Vishesha Dharaner Siksha Haleo Shikshar Mul Srotadhara Theke Bichchhinna Noy Wrong Kono Kichhu Bisheshrupe Janar Arthai Jodi Hay Bigyan Toh Bigyan Shikshar Earth Eman Ec Siksha Ja Manushake Bibhinna Vise Bisheshrupe Jante Sahayata Kare Abar AE Jaana Byaparati Ekadike Jeman Gyaner Pariposhak Anyadike Temni Gyaner Binashak Ataeb Bigyan Siksha Volte Eman Ec Siksha Bojhay Ja Amader Gyanandhakar Dur Kare Jathartha Gyaner Abhas Dey Evan Manushyatber Jagran Ghatiye Atmopalabdhi Tatha Bishwajagater Swarup Upalabdhite Sahayata Kare Jibne Sukh Swachchhandya Bidhanakalpe Manus Ekada Bigyanacharcha Shuru Karechhil Bigyaner Kalyan Murtite Bimugdha Manus Sedin Param Bandhur Mato Baran Kare Niyechhil Take Bigyaner Haut Dhare Manus Sedin Peyechhil Jibner Nirapattar Pratishruti Peyechhil Jibner Sukh Evan Swachchhandyer Ashwas Manus Sedin Bigyanake Jibanajatrar Sahachar Kare Jibanake Kare Tulchhil Suhaj Evan Swabhabik Bigyaner AE Uddeshya O Bishishtatake Mene Nile Sakal Deshe Sarbakale Aare Upajogitake Mante Hay Juge Juge Manus Kamabeshi Parinane Ta Meneo Niyechhe Tai Shatabdir Par Shatabdi Dhare Bigyaner Jeman Unnati Ghatachhe Bigyan Shikshao Temni Hayechhe Samprasarit Manus Shikhechhe Je Gyanajagt Parabar Atikramaner Anyatam Shrestha Tarani Evan Jagt Rahasyer Swarup Anweshane Agrahi Na Hale Saw Saw Chaitanyer Bikashao Asambhab Manusher AE Gabhir Gopan Anubhutii Take Bigyan Shikshay Anupranit Karechhe Evan Deshe Deshe Kalle Kalle Manus Ekadike Bahyik Prayojane Anyadike Antarnihit Preranar Tagide Bigyan Shikshar Prayojniyta Ba Gurutba Upalabdhi Karechhe Bigyan Amader Siksha Dey Je Siksha Dharabahik Bishleshanapanthi O Bastabasammat Ekati Bastab Karjakaran Neymar Abishkar Bigyaner Kaj Can Hachchhe Key Janya Hachchhe Bigyanai Ta Ble Dite Pare Bigyaner Byapak Bistare Bikashe Rupdane Jekono JATI Ba Desher Sarbangin Unnati Nirbhar Kare Cable Chhot Bar Kalakarkhana Gare Tola Bigyaner Kaj Noy Krishir Unnatir Jonyo Baigyanik Paddhatir Sahajya Newa Huye Thake Chashabader Unnatir Janya Nadir Dhara Niyantraner Janya Banya Niyantran Kusanskar Duribhut Bekaratber Laghab Ityadir Janya Bigyaner Sahajya Grahan Kara Hay Kajei Bigyan Shikshar ‍uddeshya Anek Desh O JATI Gathaner Xetre Nana Dharaner Bigyan Shikshar Prayojniyta Ache Unnayanashil Ekati Desher Janya Prachur Daktar Prakaushali Jeman Darakar Temni Darakar Krishibigyani O Pashubigyani Tove Money Rakha Darakar Je Sadharan Bigyan Siksha Sabai Pare Kintu Karigari Bigyan Shikshar Ayojan Karate Habe Desher Prayojner Dike Laksha Rekhe Uchchatar Baigyanik Gabeshnao Emanabhabe Parichalit Hwa Uchit Jate Ekadike Ta Desher Kalyan Bidhane Samarth Hay Evan Anyadike Bidesher Kachhe Swadesher Bhabmurtike Ujjwal Kare Upajukta Kaj Na Peye Bigyan Bidyay Uchch Shikshit Bahu Byakti Az Je Bideshe Pari Dichchhe Bideshe Paralekha Sesh Kare Are Deshe Fire Ashche Na Etah Desh Evan Jatir Janya Atyanta Lajjakar O Xatikar Bigyane Uchch Shikshitara Jeman Swadesher Katha Bhabe Na Deshao Temni Tader Katha Bhabe Na Arthat Desher Sange Tader Atmik Jogsutrati Jeman Temni Desher Baishyik Agragatir Pathatio Abalilakrame Bighnit Hay Samajer Bibhinna Shrenir Manusher Jibne Bigyan Shikshar Prabhab O Prayojniyta Aparisim Bigyaner Sange Samanyatam Parichit Chashi Matrai Janen Je Samayamat Wristy Na Hale Adrishtake Dhikkar Dite Dite Chokher Jale Book Bhasiye Love Nei Taur Cheye Kritrim Upaye Pani Secher Byabastha Kara Buddhimaner Kaj SATHYA Volte Ki Bangladesher Mato Unnayanashil Desher Krishakader Madhye Upajukta Bigyan Shikshar Prasar Krishi Utpadner Xetre Jugantar Anate Pare Unnat Wiz Upajukta Sir Kitnashak Oshudh Evan Ec Kathay Bigyanabhittik Chashabad Samparke Tara Jodi Siksha Pay Tahle Prakrit Krishibiplab Achirei Ghatano Sambhab Kalakarkhanay Karmarat Shramikder Kichhuta Bigyan Siksha Kajer Khatirei Arjan Karate Hay Kintu Say Siksha Aare Beshirbhagai Jehetu Jantrik Ba Hate Kalame Tattbik Satyer Nirikhe Noy Tai Prakrit Bigyan Shikshay Shikshit Habar Sujog Edesher Adhikangsh Shilpashramikai Pay Na Aare Fale Era Kakhano Ba Durghatanay Sahaje Shikar Hay Abar Kakhano Ba Bahu Bichitra Bhool Abhyas O Dharnake Prashray Diye Nijeder Sarbanash Nijerai Deke Aane Bigyan Shikshar Upajogita Madhyabitta Samajeo Jatheshta Madhyabitta Gharer Ekajan Kala Bibhager Snatak Parikshay Valu Fully Karuk Na Can Bigyan Vise Antat Sadharan Siksha Jodi Taur Na Thake Tahle Volte Habe Say Siksha Asampurna Dhoni Ba Uchchabitta Gharer Chhelemeyera Takar Jore Anek Kichhui Karate Pare Emanaki Desh Bideshe Giye Sastay Digri Sangrah Karao Kathin Kichhu Noy Bigyan Shikshar Rayechhe Nana Stor Uchchatar Madhyamik O Prathamik Bigyan Samparke Antat Prathamik Gyan Arjan Na Karale A Juge Shikshai Asampurna Thake Byaktigat Jibne Jeman Samajjibneo Temni Manus Taur Jathartha Bhumika Palne Aksham Hay Swasthyarakshar Sadharan Bidhiniyamagulo Je Jaane Na Khadyer Gunagun Ba Rogue Pratirodher Byabastha Samparke Jar Kono Dharna Nei Nagrik Hisebe Nishchay Say Dayitbashil Hate Pare Na Bigyan Samparke Sadharan Gyan Thakle Nanadik Diye Subidha Keu Roger Jantranay Ba Samyik Snayu Baikalyer Fale Bhool Bakale Ojha Dakte Hay Na Ashtagrah Sammelan Ba Skailyab Ba Purnagras Surjagrahanake Upalaksh Kare Gharabari Chhere Palate Hay Na Shudhu Tabij Ba Madulike Sambal Kare Nijeke Daiber Hate Sanpe Dite Hay Na Echhara Bigyan Samparke Motamuti Dharna Jader Ache Arthat Jara Madhyamik Parjayer Bigyan Shikshay Nijeder Shikshit Karechhen Tara Toh Ec Hisebe Bhagyaban Tara Bishwajagater Madhye Neymar Sutra Anudhaban Curren Jagt Sansarer Bibhinna Ghatanar Madhye Karjakaran Samparke Abishkar Curren Evan Sabacheye Bar Katha Jagt Sansarer Swarup Upalabdhir Byapare Anekkhani Janen Uchchatar Bigyan Siksha Sakaler Pakshe Sambhab Noy Jara Jogya Evan Jatharthai Agrahi Shudhu Tarai AE Siksha Labher Sujog Pene Uchchatar Bigyan Siksha Manushake Nav Nav Abishkarer Udwuddha Kare Desh O JATI Gathane Birat Bhumika Rakhe Bigyan Shikshar Abhabe Juge Juge Samaj O Sabhyatar Apurniya Xati Karechhe Sagre Santan Bisarjan Evan Satidager Katha Chhere Dileo Bartaman Juge Debike Prasanna Karar Basnay Narabalir Katha Ba ’sagyane Gangalabho Aare Ashay Mumurshu Rogike Ganga Tire Niye Giye Book Saman Panite Dubiye Rakha Allahake Khushi Karate Nizar Santanake Korbani Kara Sabai Bigyan Shikshar Abhabe Ghate Jawa Ghatana Daini Bhebe Kalyanamayi Arkake Ekadin Puriye Mara Hayechhil Ajo Daini Sangbad Shona Jay Ajo Dekha Jay Bhutapreter Astitva Sweekar Kare Jhar Funker Ashraya Newar Drishya Bigyan Shikshar Abhabei Eman Udbhat Dharna Poshan Karachhe Manus Are Bhog Karachhe Taur Kufal Bigyan Siksha Manushake Juktinishtha O Bicharshil Kare Unde Abeg Bhool Biswas O Sarbanasha Murkhatar Qabala Theke Banchay Bigyan Shikshar Gune Manusher Buddhir Vikas Ghate Chinta Bhavana O Bodhashaktir Unnati Hay Evan Sabacheye Bar Katha Satyopalabdhir Pathe Say Anek Dur Egiye Jay Bigyan Siksha Kusanskarer Bar Stru ’najaro Lege Chhele Roga Hay Ba Gachh Mare Jay Samanya Parimaneo Jara Bigyan Siksha Arjan Karechhen Nishchay Tara Esab Kusanskare Kun Than Na Biswas Curren Na Echhara Deher Koun Ekati Sthane Tiktiki Parale Arthagam Hanchi Kashir Sathe Unnat Abanatir Sampark Swapnajoge Prapta Vishesha Koun Daibir Daiwa Xamata Bigyan Siksha Tye Shikshitader Kachhe Aare Kono Gurutba Nei Dharmer Name Gonramike Jara Prashray Dey Prakrit Bigyan Siksha Taderao Chaitanya Jagarane Sahajya Kare Bigyan Siksha Aare Uddeshya Ba Gurutba Samparke Prachar Pracharana Chaliye Bigyan Shikshay Udwuddha Karar Janya Sorcerer Udyogai Pradhan Krishakaderke Shramikderke Bigyan Vise Gyanadane Sarakarke Udyogi Hate Habe Bibhinna Bigyan Melar Ayojan A Vise Gurutbapurna Bhumika Rakhte Pare Bigyan Shikshar Agragatir Janya Sorcerer Pashapashi Besarakari Samajik Sangathanagulorao Egiye Asate Habe Bigyan Shikshar Prayojniytar Katha Sweekar Kare Age Amader Janasadharanake Shikshit Kare Tulte Habe Edesher Koti Koti Manus Ekhano Jagtsansar Samparke Puropuri Agya Amader Money Rakhte Habe Jatir Bipulasankhyak Manushake Baad Diye Mushtimey Loka Bigyan Shikshay Shikshit Hale Jatiya Unnayan Sambhab Noy Tai Desher Sarbik Unnatir Lakshye Bigyan Shikshar Opar Gurutba Arop Karate Habe Evan Jathasambhab Arthik Dik Theke Sahajalabhya Karate Habe Bigyan Shikshake
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon
500000+ दिलचस्प सवाल जवाब सुनिये 😊

Similar Questions

More Answers


বাংলাদেশের শিক্ষা বাড়ি বিজ্ঞান শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ জানুয়ারী 17, 201301304 ভাগ করুন বাংলাদেশের শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা মিহির হালদার: আমরা বিজ্ঞানের যুগে বাস করছি। চারপাশে আমরা লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবো শুধু বিজ্ঞানেরই জয়ধ্বনি। সুতরাং আমারা যদি বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাই, তবে বিজ্ঞান শিক্ষা ও তার বিস্তার হওয়া অতীব জরুরি। গেল বছরের দিকে একটু দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাব বেশ চোখে পড়ার মতো নতুন কিছু বিষয়। যেমন আউটসোর্সিং ও সফটওয়ারের কলেবর বৃদ্ধিসহ বেশ অগ্রগতি হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এসে চালু হয়েছে ই-পেমেন্ট গেটওয়ে; ই-কমার্সের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই একটা বড় অর্জন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বড় বড় ব্যাংক এতে যুক্ত হলে কাজ অনেক এগিয়ে যাবে এবং সহজ হবে পাশাপাশি বাড়বে অনলাইন লেনদেন। এছাড়া দেশে প্রযুক্তির আরেকটি নতুন সংযোজন হলো মোবাইল ফোনে থ্রি-জি (থার্ড জেনারেশন) সেবা চালু। অর্থাৎ এখন থেকে চাইলে মোবাইলেই আমরা অনেক ধরনের সেবা পেতে পারি যা ভিডিও আকারে আমরা দেখব ও শুনতে পারব। স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। অথচ অন্যদিকে গত বছরে সরকারি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায়নি, সঠিক তথ্যপ্রাপ্তিতে ও সুবিধা-সেবা পেতে তাই সাধারণ লোকের ভোগান্তির শেষ নেই। সব মিলিয়ে আমাদের বড় কিছু অর্জন না হলেও শক্ত একটা ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এর ফল আগামীতে আমরা অবশ্যই পাব। আশা রাখি, জ্ঞানবিজ্ঞানের বৃহৎ তরী তরুণেরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে, পালে হাওয়া যোগাবে তাদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাই তরুণদেরকে দেখাতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইডলাইন।
Romanized Version
বাংলাদেশের শিক্ষা বাড়ি বিজ্ঞান শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ জানুয়ারী 17, 201301304 ভাগ করুন বাংলাদেশের শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা মিহির হালদার: আমরা বিজ্ঞানের যুগে বাস করছি। চারপাশে আমরা লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবো শুধু বিজ্ঞানেরই জয়ধ্বনি। সুতরাং আমারা যদি বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাই, তবে বিজ্ঞান শিক্ষা ও তার বিস্তার হওয়া অতীব জরুরি। গেল বছরের দিকে একটু দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাব বেশ চোখে পড়ার মতো নতুন কিছু বিষয়। যেমন আউটসোর্সিং ও সফটওয়ারের কলেবর বৃদ্ধিসহ বেশ অগ্রগতি হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এসে চালু হয়েছে ই-পেমেন্ট গেটওয়ে; ই-কমার্সের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই একটা বড় অর্জন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বড় বড় ব্যাংক এতে যুক্ত হলে কাজ অনেক এগিয়ে যাবে এবং সহজ হবে পাশাপাশি বাড়বে অনলাইন লেনদেন। এছাড়া দেশে প্রযুক্তির আরেকটি নতুন সংযোজন হলো মোবাইল ফোনে থ্রি-জি (থার্ড জেনারেশন) সেবা চালু। অর্থাৎ এখন থেকে চাইলে মোবাইলেই আমরা অনেক ধরনের সেবা পেতে পারি যা ভিডিও আকারে আমরা দেখব ও শুনতে পারব। স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। অথচ অন্যদিকে গত বছরে সরকারি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায়নি, সঠিক তথ্যপ্রাপ্তিতে ও সুবিধা-সেবা পেতে তাই সাধারণ লোকের ভোগান্তির শেষ নেই। সব মিলিয়ে আমাদের বড় কিছু অর্জন না হলেও শক্ত একটা ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এর ফল আগামীতে আমরা অবশ্যই পাব। আশা রাখি, জ্ঞানবিজ্ঞানের বৃহৎ তরী তরুণেরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে, পালে হাওয়া যোগাবে তাদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাই তরুণদেরকে দেখাতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইডলাইন।Bangladesher Siksha Bari Bigyan Siksha Bigyan Siksha Bigyan Siksha Pariprekshit Bangladesh January 17, Bhag Karoon Bangladesher Siksha Bangladesher Siksha Mihir Halder Amara Bigyaner Juge Bass Karachhi Charpashe Amara Lakshya Karalei Dekhte Pabo Shudhu Bigyanerai Jayadhbani Sutarang Amara Jodi Bartaman Bishwer Sathe Tal Miliye Chalate Chai Tove Bigyan Siksha O Taur Bistar Hwa Atib Jaruri Gel Bachharer Dike Ekatu Drishti Dile Amara Dekhte Pub Bash Chokhe Parar Mato NATUN Kichhu Vysya Jeman Outsourcing O Safatwarer Kalebar Briddhisah Bash Agragati Hayechhe Gata Bachharer Disembarer Sesh Dike Ese Chalu Hayechhe E Payment Gateway E Kamarser Xetre AT Abashyai Ekata Bar Arjan Agami Kayek Maser Madhye Bar Bar Bank Ete Jukta Hale Kaj Anek Egiye Jabe Evan Suhaj Habe Pashapashi Barbe Online Lenden Echhara Deshe Prajuktir Arekati NATUN Sangjojan Holo Mobile Fone Thri G Third Generation Seva Chalu Arthat Ekhan Theke Chaile Mobailei Amara Anek Dharaner Seva Pete Pari Ja Video Akare Amara Dekhab O Shunte Parab Swasthya O Krishikhate Prajuktir Byabahar Berechhe Athos Anyadike Gata Bachhare Sarakari Karjakrame Tathyaprajuktir Byabahar Temanabhabe Lakshya Kara Jayni Sathik Tathyapraptite O Subidha Seva Pete Tai Sadharan Loker Bhogantir Sesh Nei Sab Miliye Amader Bar Kichhu Arjan Na Haleo Shakta Ekata Bhitti Gare Uthechhe Aare Fall Agamite Amara Abashyai Pub Asha Rakhi Gyanabigyaner Briht Tri Tarunerai Egiye Niye Jabe Pale Hawa Jogabe Tader Byapak Utsah Uddipana Tai Tarunderke Dekhate Habe Sathik Diknirdeshana Ba Gaidalain
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon

Vokal is India's Largest Knowledge Sharing Platform. Send Your Questions to Experts.

Related Searches:Bigyan Shikshar Uddeshya,The Purpose Of Science Education,


vokalandroid