আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক এ আলোচনা কর? ...

বাংলাদেশে এখন যাঁদের বয়স ৪৫ অথবা তার কম, তাঁরা জন্মগ্রহণ করেছেন স্বাধীন দেশের নাগরিকের সৌভাগ্য নিয়ে। তার ওপরে যাঁদের বয়স কিন্তু ৭০-এর নিচে, তাঁরা ছিলেন প্রথমে পাকিস্তানের নাগরিক, তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের। ৭০-এর বেশি যাঁদের বয়স, তাঁরা জন্মেছিলেন পরাধীন ভারতবর্ষে। তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন, তাঁদের সময় আইনের শাসনও ছিল, কোর্ট-কাছারি ছিল, দারোগা-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছিল লেখাপড়ার জন্য, সরকারি হাসপাতাল ছিল রোগবালাই হলে চিকিৎসা নেওয়ার, রেলগাড়ি-স্টিমার ছিল যাতায়াতের জন্য। কিন্তু তাঁরা স্বশাসিত ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন পরাধীন। তাঁদের শাসক ছিলেন বিদেশি। তাঁরা দেখতে ছিলেন সুন্দর। লম্বা-চওড়া, গোলাপি-ফরসা। তাঁদের ভাষা ছিল ইংরেজি। পাকিস্তানের প্রধান শাসকেরাও উর্দুতে বাতচিত করতেন, বাংলায় নয়। ১৯৭২ থেকে বাঙালি স্বশাসিত। সেটা কম গৌরবের কথা নয়। ৪৫ বছর বয়স্করা আজ নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারেন তাঁরা কেমন রাষ্ট্রে বাস করছেন। বাংলাদেশের সংবিধান—দেশের সর্বোচ্চ আইন—যে অঙ্গীকার করেছে, রাষ্ট্রটি সেই রকম কি না। সংবিধান নাগরিকদের যেসব অধিকার দিয়েছে, সেসব অধিকার তাঁরা ভোগ করছেন কি না। সংবিধান যে রকম শাসনব্যবস্থার নির্দেশ সম্পর্ক দিয়েছে, ঠিক সেই রকম শাসনব্যবস্থায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে কি না। এসব প্রশ্নের হ্যাঁ–বাচক বা না-বাচক উত্তর থেকে বলা যাবে তাঁরা কেমন রাষ্ট্রের নাগরিক। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ’৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের যে সংবিধান ছিল তা একটি যথেষ্ট ভালো সংবিধান। তা ছিল যাকে বলে ওয়ার্কেবল—কার্যকর বা কাজ চালানোর জন্য উপযুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকদের দুর্ভাগ্য, যাঁরা সেই সংবিধানের রচয়িতা, তাঁরাই সেটাকে পরিবর্তন করেন। পরে স্বনিয়োজিত শাসকেরা ’৭২-এর সংবিধানের চেতনাকে নস্যাৎ করেন। কোনো জিনিস একবার বরবাদ হয়ে গেলে সেটাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন। ষোলো বার সংশোধনের পরেও বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান যে অবস্থায় আছে তাতেও বলা হয়েছে: ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ খুবই স্পষ্ট ঘোষণা। এই দুই বাক্যেই বহু কথা বলা হয়েছে। এই কথা কয়টির অর্থ দাঁড়ায় এই যে রাষ্ট্রযন্ত্র যত ক্ষমতাবানই হোক তার ওপরে একজন ব্যক্তি বা নাগরিকের স্থান সম্পর্ক । রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো অধিকারই নেই কোনো নাগরিকের ‘মানবসত্তার মর্যাদা’ ক্ষুণ্ন করে—সে নাগরিক যে-ই হোক। হতে পারে সে একজন পকেটমার, ছিঁচকে চোর বা গ্রাম্য বাটপার, অথবা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী কিংবা কোনো পত্রিকার উপসম্পাদকীয় লেখক। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে: ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ আইনের আশ্রয় লাভ সব নাগরিক যাতে সমানভাবে পেতে পারে তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই অধিকারটি আইনের শাসনের প্রাথমিক শর্ত। সংবিধানের ৩০, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদেও আইনের আশ্রয় লাভের নিরঙ্কুশ অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির রক্ষাকবচ সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে। এনকাউন্টার, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ কিংবা গুম সম্পর্কে কোনো অনুমোদনমূলক কথা তো দূরের কথা, ওই শব্দগুলোই সংবিধানে নেই। মৌলিক অধিকারের অর্থ অবশ্য এই নয় যে একজন নাগরিক যা খুশি তা-ই করবে। মানুষ অপরাধপ্রবণ প্রাণী। ব্যক্তিস্বাধীনতা নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার। সেই সঙ্গে নাগরিককে হতে হবে আইন মান্যকারী ও সুশৃঙ্খল মানুষ। আইনে নিষিদ্ধ কোনো কাজ করলে তার শাস্তি প্রাপ্য। তবে সুবিচারের যে নীতি বা দর্শন তা হলো এমন শাস্তি একজন অপরাধীকে দেওয়া যাবে না, যাতে কারাগার থেকে বেরিয়ে সে আরও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। এবং এমন লঘু দণ্ড দেওয়া যাবে না, যার ফলে বারবার সে একই অপরাধ করার সাহস পায়। একটি সভ্য সমাজে কারাগারে এমন পরিবেশ থাকা বাঞ্ছনীয়, যেখানে গিয়ে অপরাধী আত্মসংশোধনের সুযোগ পায় এবং কারাগারেও যেন তার মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়। অপরাধীর বিচার ও শাস্তি সম্পর্কিত মৌলিক অধিকারের কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তা করা গর্হিত অপরাধ। অভিযুক্ত ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। পরাধীন ভারতবর্ষেও তা ছিল। আমাদের দেশে এমন সব অপরাধের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। ওই জাতীয় অপরাধীদের কঠোরভাবে দমন করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শত্রুতাবশত ব্যক্তিগত খুনখারাবিও অপরাধ। সেখানে কেউ আসামি কেউ ফরিয়াদি। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য যে সন্ত্রাস তা অন্য জিনিস, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অপরাধীর শত্রু নয়। যারা আহত বা নিহত হয়, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ সম্পর্ক । ভারতের উচ্চ আদালতের রায়ের খবরও কাগজে দেখেছি। তাতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের অপরাধের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনবহির্ভূত তৎপরতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, বরং তা আরও বেশি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড উসকে দেবে। সুতরাং হিংস্র অপরাধ নির্মূলে অস্ত্র নয়, বিকল্প একাধিক ব্যবস্থা রাখাই সংগত। সে ব্যবস্থা নরমও হতে পারে, কঠোরও হতে পারে। সংবিধানে পরিষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’। এর ওপরে কোনো কথা নেই। দেশ স্বাধীন হবে কিন্তু সেখানে কোনো গণতন্ত্র থাকবে না—এমন ধারণা নিয়ে কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরাই জীবন বাজি রেখে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করেন না। শুধু ভোটাভুটি বা ভোটারবিহীন নির্বাচন মেনে নেওয়াই গণতন্ত্র নয়। কোনো ধরনের সরকারই একা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য উচ্চতর আদালতসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো যদি যথাযথ ভূমিকা পালন না করতে পারে তাহলে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক, সরকারি কর্মকমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভৃতি যে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে—সে ব্যাপারে জনগণের সন্দেহ রয়েছে। ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে যদি জনগণ উপকৃত না হয় তাহলে ওগুলোর কোনো দাম থাকে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কেউ হস্তক্ষেপ যদি না–ও করে, কিন্তু দক্ষতা নেই। সাক্ষীগোপালের মতো কিছু থাকা না-থাকা একই কথা। মিডিয়ার ব্যাপকতার কারণে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা প্রচারমুখী হয়ে পড়েছেন। একটি প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র এক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, চ্যানেল ও পত্রিকায় প্রচারের ব্যবস্থা না থাকলে এসি-কামরায় বসে কাজ না করে প্রতিদিন তাঁর বস সভা-সমাবেশে ছুটতেন না। তাঁরা অব্যাহত উপদেশমূলক, হুঁশিয়ারিমূলক এবং আত্মপ্রশংসামূলক বক্তৃতা দিচ্ছেন। তাতে প্রকাশ পাচ্ছে তাঁদের বাক্সর্বস্বতা, কিন্তু জাতির কোনো উপকার হচ্ছে না। দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। আমাদের সংবাদপত্রের প্রতিবাদী ভূমিকা পালনের ঐতিহ্য আছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বেসামরিক ও সামরিক-আধা সামরিক সরকারগুলো থেকে বিচিত্রভাবে সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হচ্ছে। বস্তুত, ওই আক্রমণ ও চাপ গণতন্ত্রের ওপর। একজন আইনবিদ যদি বিচার বিবেচনা না করে তাঁর মক্কেলকে ভুল পথে পরিচালানা করেন, তবে তিনি নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন এবং এজন্য তিনি আইন পেশার অধিকারও হারাতে পারেন। ঠিক তেমনি আদালত অবমাননা কখন, কীভাবে হতে পারে সে বিষয়ে প্রত্যেকের বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িতদের পরিষ্কার ধারণা থাকা অপরিহার্য। যদি সঠিক ধারণা থাকে, তবে আমাদের আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি যেমন হতে হয় না, ঠিক তেমনি মহামান্য আদালত ও বিচারক মহোদয়কেও বিব্রত হতে হয় না। বলার অপেক্ষা রাখে না সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও আদালত অবমাননার বিষয় দুটো বেশ স্পর্শকাতর। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণে রাখা দরকার যে, স্বাধীনতারও একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, যা ইচ্ছে তা করা বা লেখা। সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান পেশা, সেদিক বিবেচনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের উচিত বিচার বিভাগ ও আদালত সম্পর্কে তথ্য পরিবেশনের আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। মূলত, সংবিধানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের বাক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।‘ ২০০৭ সালে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিধির কন্টেম্পট পিটিশন নং ৯৫৭১/২০০৭ (রাষ্ট্র বনাম আদালত অবমাননাকারী) মামলায় স্বয়ং মহামান্য আইন বিচারপতি আদালত অবমাননা সম্পর্কে রায় প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন, ‘বিচারকরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় তবে সে সমালোচনা সংযত ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া দরকার। একজন বিচারকের রায় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করতে আইনগত কোনো প্রকারের বাঁধা নেই। কিন্তু প্রদত্ত সে রায়ের কারণে বিচারককে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করা যাবে না। প্রত্যেকের বিবেচনায় রাখতে হবে আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় আইন বিচারকদের এতটুকু নিরাপত্তা জনগণ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে প্রদান করেছেন। যদি সে রকমটা না হতো তবে বিচারকের মতো সর্বাধিক গুরুদায়িত্ব পালন করতে কেউ রাজি হতেন না।‘ বিচারকরা যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে তা কখনও নয় তবে তার দায়বদ্ধতা বা সে সব সমালোচনার ধরন ও প্রকৃতিতে রয়েছে ভিন্নতা।
Romanized Version
বাংলাদেশে এখন যাঁদের বয়স ৪৫ অথবা তার কম, তাঁরা জন্মগ্রহণ করেছেন স্বাধীন দেশের নাগরিকের সৌভাগ্য নিয়ে। তার ওপরে যাঁদের বয়স কিন্তু ৭০-এর নিচে, তাঁরা ছিলেন প্রথমে পাকিস্তানের নাগরিক, তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের। ৭০-এর বেশি যাঁদের বয়স, তাঁরা জন্মেছিলেন পরাধীন ভারতবর্ষে। তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন, তাঁদের সময় আইনের শাসনও ছিল, কোর্ট-কাছারি ছিল, দারোগা-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছিল লেখাপড়ার জন্য, সরকারি হাসপাতাল ছিল রোগবালাই হলে চিকিৎসা নেওয়ার, রেলগাড়ি-স্টিমার ছিল যাতায়াতের জন্য। কিন্তু তাঁরা স্বশাসিত ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন পরাধীন। তাঁদের শাসক ছিলেন বিদেশি। তাঁরা দেখতে ছিলেন সুন্দর। লম্বা-চওড়া, গোলাপি-ফরসা। তাঁদের ভাষা ছিল ইংরেজি। পাকিস্তানের প্রধান শাসকেরাও উর্দুতে বাতচিত করতেন, বাংলায় নয়। ১৯৭২ থেকে বাঙালি স্বশাসিত। সেটা কম গৌরবের কথা নয়। ৪৫ বছর বয়স্করা আজ নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারেন তাঁরা কেমন রাষ্ট্রে বাস করছেন। বাংলাদেশের সংবিধান—দেশের সর্বোচ্চ আইন—যে অঙ্গীকার করেছে, রাষ্ট্রটি সেই রকম কি না। সংবিধান নাগরিকদের যেসব অধিকার দিয়েছে, সেসব অধিকার তাঁরা ভোগ করছেন কি না। সংবিধান যে রকম শাসনব্যবস্থার নির্দেশ সম্পর্ক দিয়েছে, ঠিক সেই রকম শাসনব্যবস্থায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে কি না। এসব প্রশ্নের হ্যাঁ–বাচক বা না-বাচক উত্তর থেকে বলা যাবে তাঁরা কেমন রাষ্ট্রের নাগরিক। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ’৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের যে সংবিধান ছিল তা একটি যথেষ্ট ভালো সংবিধান। তা ছিল যাকে বলে ওয়ার্কেবল—কার্যকর বা কাজ চালানোর জন্য উপযুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকদের দুর্ভাগ্য, যাঁরা সেই সংবিধানের রচয়িতা, তাঁরাই সেটাকে পরিবর্তন করেন। পরে স্বনিয়োজিত শাসকেরা ’৭২-এর সংবিধানের চেতনাকে নস্যাৎ করেন। কোনো জিনিস একবার বরবাদ হয়ে গেলে সেটাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন। ষোলো বার সংশোধনের পরেও বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান যে অবস্থায় আছে তাতেও বলা হয়েছে: ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ খুবই স্পষ্ট ঘোষণা। এই দুই বাক্যেই বহু কথা বলা হয়েছে। এই কথা কয়টির অর্থ দাঁড়ায় এই যে রাষ্ট্রযন্ত্র যত ক্ষমতাবানই হোক তার ওপরে একজন ব্যক্তি বা নাগরিকের স্থান সম্পর্ক । রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো অধিকারই নেই কোনো নাগরিকের ‘মানবসত্তার মর্যাদা’ ক্ষুণ্ন করে—সে নাগরিক যে-ই হোক। হতে পারে সে একজন পকেটমার, ছিঁচকে চোর বা গ্রাম্য বাটপার, অথবা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী কিংবা কোনো পত্রিকার উপসম্পাদকীয় লেখক। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে: ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ আইনের আশ্রয় লাভ সব নাগরিক যাতে সমানভাবে পেতে পারে তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই অধিকারটি আইনের শাসনের প্রাথমিক শর্ত। সংবিধানের ৩০, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদেও আইনের আশ্রয় লাভের নিরঙ্কুশ অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির রক্ষাকবচ সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে। এনকাউন্টার, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ কিংবা গুম সম্পর্কে কোনো অনুমোদনমূলক কথা তো দূরের কথা, ওই শব্দগুলোই সংবিধানে নেই। মৌলিক অধিকারের অর্থ অবশ্য এই নয় যে একজন নাগরিক যা খুশি তা-ই করবে। মানুষ অপরাধপ্রবণ প্রাণী। ব্যক্তিস্বাধীনতা নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার। সেই সঙ্গে নাগরিককে হতে হবে আইন মান্যকারী ও সুশৃঙ্খল মানুষ। আইনে নিষিদ্ধ কোনো কাজ করলে তার শাস্তি প্রাপ্য। তবে সুবিচারের যে নীতি বা দর্শন তা হলো এমন শাস্তি একজন অপরাধীকে দেওয়া যাবে না, যাতে কারাগার থেকে বেরিয়ে সে আরও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। এবং এমন লঘু দণ্ড দেওয়া যাবে না, যার ফলে বারবার সে একই অপরাধ করার সাহস পায়। একটি সভ্য সমাজে কারাগারে এমন পরিবেশ থাকা বাঞ্ছনীয়, যেখানে গিয়ে অপরাধী আত্মসংশোধনের সুযোগ পায় এবং কারাগারেও যেন তার মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়। অপরাধীর বিচার ও শাস্তি সম্পর্কিত মৌলিক অধিকারের কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তা করা গর্হিত অপরাধ। অভিযুক্ত ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। পরাধীন ভারতবর্ষেও তা ছিল। আমাদের দেশে এমন সব অপরাধের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। ওই জাতীয় অপরাধীদের কঠোরভাবে দমন করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শত্রুতাবশত ব্যক্তিগত খুনখারাবিও অপরাধ। সেখানে কেউ আসামি কেউ ফরিয়াদি। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য যে সন্ত্রাস তা অন্য জিনিস, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অপরাধীর শত্রু নয়। যারা আহত বা নিহত হয়, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ সম্পর্ক । ভারতের উচ্চ আদালতের রায়ের খবরও কাগজে দেখেছি। তাতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের অপরাধের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনবহির্ভূত তৎপরতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, বরং তা আরও বেশি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড উসকে দেবে। সুতরাং হিংস্র অপরাধ নির্মূলে অস্ত্র নয়, বিকল্প একাধিক ব্যবস্থা রাখাই সংগত। সে ব্যবস্থা নরমও হতে পারে, কঠোরও হতে পারে। সংবিধানে পরিষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’। এর ওপরে কোনো কথা নেই। দেশ স্বাধীন হবে কিন্তু সেখানে কোনো গণতন্ত্র থাকবে না—এমন ধারণা নিয়ে কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরাই জীবন বাজি রেখে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করেন না। শুধু ভোটাভুটি বা ভোটারবিহীন নির্বাচন মেনে নেওয়াই গণতন্ত্র নয়। কোনো ধরনের সরকারই একা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য উচ্চতর আদালতসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো যদি যথাযথ ভূমিকা পালন না করতে পারে তাহলে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক, সরকারি কর্মকমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভৃতি যে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে—সে ব্যাপারে জনগণের সন্দেহ রয়েছে। ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে যদি জনগণ উপকৃত না হয় তাহলে ওগুলোর কোনো দাম থাকে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কেউ হস্তক্ষেপ যদি না–ও করে, কিন্তু দক্ষতা নেই। সাক্ষীগোপালের মতো কিছু থাকা না-থাকা একই কথা। মিডিয়ার ব্যাপকতার কারণে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা প্রচারমুখী হয়ে পড়েছেন। একটি প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র এক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, চ্যানেল ও পত্রিকায় প্রচারের ব্যবস্থা না থাকলে এসি-কামরায় বসে কাজ না করে প্রতিদিন তাঁর বস সভা-সমাবেশে ছুটতেন না। তাঁরা অব্যাহত উপদেশমূলক, হুঁশিয়ারিমূলক এবং আত্মপ্রশংসামূলক বক্তৃতা দিচ্ছেন। তাতে প্রকাশ পাচ্ছে তাঁদের বাক্সর্বস্বতা, কিন্তু জাতির কোনো উপকার হচ্ছে না। দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। আমাদের সংবাদপত্রের প্রতিবাদী ভূমিকা পালনের ঐতিহ্য আছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বেসামরিক ও সামরিক-আধা সামরিক সরকারগুলো থেকে বিচিত্রভাবে সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হচ্ছে। বস্তুত, ওই আক্রমণ ও চাপ গণতন্ত্রের ওপর। একজন আইনবিদ যদি বিচার বিবেচনা না করে তাঁর মক্কেলকে ভুল পথে পরিচালানা করেন, তবে তিনি নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন এবং এজন্য তিনি আইন পেশার অধিকারও হারাতে পারেন। ঠিক তেমনি আদালত অবমাননা কখন, কীভাবে হতে পারে সে বিষয়ে প্রত্যেকের বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িতদের পরিষ্কার ধারণা থাকা অপরিহার্য। যদি সঠিক ধারণা থাকে, তবে আমাদের আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি যেমন হতে হয় না, ঠিক তেমনি মহামান্য আদালত ও বিচারক মহোদয়কেও বিব্রত হতে হয় না। বলার অপেক্ষা রাখে না সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও আদালত অবমাননার বিষয় দুটো বেশ স্পর্শকাতর। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণে রাখা দরকার যে, স্বাধীনতারও একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, যা ইচ্ছে তা করা বা লেখা। সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান পেশা, সেদিক বিবেচনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের উচিত বিচার বিভাগ ও আদালত সম্পর্কে তথ্য পরিবেশনের আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। মূলত, সংবিধানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের বাক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।‘ ২০০৭ সালে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিধির কন্টেম্পট পিটিশন নং ৯৫৭১/২০০৭ (রাষ্ট্র বনাম আদালত অবমাননাকারী) মামলায় স্বয়ং মহামান্য আইন বিচারপতি আদালত অবমাননা সম্পর্কে রায় প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন, ‘বিচারকরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় তবে সে সমালোচনা সংযত ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া দরকার। একজন বিচারকের রায় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করতে আইনগত কোনো প্রকারের বাঁধা নেই। কিন্তু প্রদত্ত সে রায়ের কারণে বিচারককে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করা যাবে না। প্রত্যেকের বিবেচনায় রাখতে হবে আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় আইন বিচারকদের এতটুকু নিরাপত্তা জনগণ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে প্রদান করেছেন। যদি সে রকমটা না হতো তবে বিচারকের মতো সর্বাধিক গুরুদায়িত্ব পালন করতে কেউ রাজি হতেন না।‘ বিচারকরা যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে তা কখনও নয় তবে তার দায়বদ্ধতা বা সে সব সমালোচনার ধরন ও প্রকৃতিতে রয়েছে ভিন্নতা। Bangladeshe Ekhan Jander Boy 45 Athaba Taur Com Tanra Janmagrahan Karechhen Sweden Desher Nagriker Saubhagya Niye Taur Opare Jander Boy Kintu 70 Aare Niche Tanra Chhilen Prathame Pakistaner Nagrik Tarapar Sweden Bangladesher 70 Aare Bedshee Jander Boy Tanra Janmechhilen Paradhin Bharatabarshe Tanra Swabhabik Jibanajapan Karechhen Tander Camay Ainer Shasanao Chhil Korta Kachhari Chhil Daroga Pulish Myajistret Chhilen School College Bishwabidyalay Chhil Lekhaprar Janya Sarakari Haspatal Chhil Rogbalai Hale Chikitsa Newar Relgari Stimar Chhil Jatayater Janya Kintu Tanra Swashasit Chhilen Na Tanra Chhilen Paradhin Tander Shasak Chhilen Bideshi Tanra Dekhte Chhilen Sundar Lamba Chaora Golapi Farasa Tander Bhasha Chhil Ingreji Pakistaner Pradhan Shaskerao Urdute Batchit Karaten Banglay Noy 1972 Theke Bangali Swashasit SATA Com Gaurber Katha Noy 45 Bachhar Biskra Az Nijeder Jigyes Karate Paren Tanra Keymon Rashtre Bass Karachhen Bangladesher Sangbidhan—desher Sarbochch Ain—je Angikar Karechhe Rashtrati Sei Rakam Ki Na Sangbidhan Nagrikder Jesab Adhikar Diyechhe Sesab Adhikar Tanra Bhog Karachhen Ki Na Sangbidhan Je Rakam Shasanabyabasthar Nirdesh Sampark Diyechhe Thik Sei Rakam Shasanabyabasthay Desh Parichalit Hachchhe Ki Na Esab Prashner Hyan–bachak Ba Na Bachak Uttar Theke Bala Jabe Tanra Keymon Rashtrer Nagrik 1972 Saler 16 Disembar Theke ’75 Aare 25 Januyari Parjanta Bangladesher Je Sangbidhan Chhil Ta Ekati Jatheshta Bhalo Sangbidhan Ta Chhil Jake Ble Warkebal—karjakar Ba Kaj Chalanor Janya Upajukta Kintu Bangladesher Nagrikder Durbhagya Janra Sei Sangbidhaner Rachayita Tanrai Setake Parivartan Curren Pare Swaniyojit Shaskera ’72 Aare Sangbidhaner Chetnake Nasyat Curren Kono Zeneca Ekabar Barabad Huye Gele Setake Ager Abasthay Firiye Newa Kathin Sholo Bar Sangshodhner Pareo Bartamane Ganaprajatantri Bangladesher Sangbidhan Je Abasthay Ache Tateo Bala Hayechhe ‘prajatantra Haibe Ekati Ganatantra Jekhanay Maulik Manbadhikar O Swadhintar Nishchayata Thakibe Manabasattar Marjada O Mulyer Prati Shraddhabodh Nishchit Haibe Evan Prashasner Sakal Parjaye Nirbachit Pratinidhider Madhyame Janaganer Karjakar Angshagrahan Nishchit Haibe ’ Khubai Spashta Ghoshna AE Dui Bakyei Bahu Katha Bala Hayechhe AE Katha Kayatir Earth Danray AE Je Rashtrajantra Jat Xamatabanai Hok Taur Opare Ekajan Byakti Ba Nagriker Sthan Sampark Rashtrajantrer Kono Adhikarai Nei Kono Nagriker ‘manabasattar Marjadao Xunna Kare—say Nagrik Je E Hok Hate Pare Say Ekajan Paketmar Chhinchake Chor Ba Gramya Batpar Athaba Kono Rajnaitik Sangathaner Karmi Kingba Kono Patrikar Upasampadakiya Lekhak Sangbidhaner 27 Anuchchhede Parishkarabhabe Bala Ache ‘sakal Nagrik Ainer Drishtite Saman Evan Ainer Saman Ashraya Labher Adhikari ’ Ainer Ashraya Love Sab Nagrik Jate Samanbhabe Pete Pare Taur Byabastha Karar Dayitba Rashtrer AE Adhikarti Ainer Shasner Prathamik Sharta Sangbidhaner 30 31 Evan 32 Anuchchhedeo Ainer Ashraya Labher Nirankush Adhikar Jeevan O Byaktiswadhintar Adhikar Rakshan Evan Greptarakrit Byaktir Rakshakabach Sampark Suspashtabhabe Nirdesh Dewa Ache Encounter Krasafayar Ba Bandukajuddha Kingba Gum Samparke Kono Anumodanamulak Katha To Durer Katha We Shabdaguloi Sangbidhane Nei Maulik Adhikarer Earth Abashya AE Noy Je Ekajan Nagrik Ja Khushi Ta E Karabe Manus Aparadhapraban Prani Byaktiswadhinta Nagriker Ekati Maulik Adhikar Sei Sange Nagrikke Hate Habe Ain Manyakari O Sushrinkhal Manus Aine Nishiddha Kono Kaj Karale Taur Shasti Prapya Tove Subicharer Je Niti Ba Darshan Ta Halo Eman Shasti Ekajan Aparadhike Dewa Jabe Na Jate Karagar Theke Beriye Say RO Pratihinsaprayan Huye Othe Evan Eman Laghu Dand Dewa Jabe Na Jar Fale Barbar Say Ekai Aparadh Karar Sahas Pay Ekati Sabhya Samaje Karagare Eman Paribesh Thaka Banchhaniya Jekhanay Giye Aparadhi Atmasangshodhner Sujog Pay Evan Karagareo Jen Taur Manbadhikar O Manbik Marjada Xunna Na Hya Aparadhir Bichar O Shasti Samparkit Maulik Adhikarer Kathao Sangbidhane Bala Hayechhe Kono Gurutar Aparadhe Abhijukta Byaktikeo Bhayabhiti Dekhiye Taur Nizar Biruddhe Sakshya Dite Badhya Kara Jabe Na Ta Kara Garhit Aparadh Abhijukta Byaktir Ichchha Anujayi Ainajibir Paramarsh O Atmapaksh Samarthaner Sujog Dite Habe Paradhin Bharatabarsheo Ta Chhil Amader Deshe Eman Sab Aparadher Prabanata Dekha Diyechhe Ja Rashtra O Samajer Janya Humkiswarup We Jatiya Aparadhider Kathorbhabe Daman Karai Rashtrer Dayitba Shatrutabashat Byaktigat Khunkharabio Aparadh Sekhane Keu Asami Keu Fariyadi Kono Rajnaitik Matadarsher Janya Je Santras Ta Anya Zeneca Sekhane Xatigrasta Byaktira Aparadhir Stru Noy Jara Ahat Ba Nihat Hya Tara Sampurna Nirdosh Sampark Bharter Uchch Adalter Rayer Khabarao Kagje Dekhechhi Tate Bala Hayechhe Santrasider Aparadher Jababe Rashtrapaksher Ainabahirbhut Ttparata Samasyar Sthayi Samadhan Noy Wrong Ta RO Bedshee Hinsatmak Karmakand Usake Dewey Sutarang Hinsra Aparadh Nirmule Astra Noy Vikalp Ekadhik Byabastha Rakhai Sangat Say Byabastha Naramao Hate Pare Kathorao Hate Pare Sangbidhane Parishkar Ghoshna Kara Hayechhe ‘prajatantra Haibe Ekati Ganatantro Aare Opare Kono Katha Nei Desh Sweden Habe Kintu Sekhane Kono Ganatantra Thakbe Na—eman Dharna Niye Kono Desher Swadhinata Sangramirai Jeevan Baji Rekhe Shatrur Biruddhe Larai Curren Na Shudhu Bhotabhuti Ba Bhotarbihin Nirbachan Mene Newai Ganatantra Noy Kono Dharaner Sarakarai Eyka Manusher Ganatantrik Adhikar Nishchit Karate Pare Na Janaganer Ganatantrik Adhikar O Manbik Marjada Rakshar Janya Uchchatar Adalatasah Bibhinna Sangbidhanik O Sangbidhibaddha Pratisthan Rayechhe Segulo Jodi Jathajath Bhumika Palan Na Karate Pare Tahle Ganatantra Karjakar Hya Na Sweden Nirbachan Commission Mahahisab Nirikshak Sarakari Karmakamishan Manbadhikar Commission Durniti Daman Commission Prabhriti Je Swadhinbhabe Dayitba Palan Karachhe—say Byapare Janaganer Sandeh Rayechhe We Sab Pratisthan Theke Jodi Janagan Upakrit Na Hya Tahle Ogulor Kono Daam Thake Na Kono Kono Pratishthaner Xetre Dekha Jachchhe Keu Hastakshep Jodi Na–O Kare Kintu Dakshata Nei Sakshigopaler Mato Kichhu Thaka Na Thaka Ekai Katha Midiyar Byapakatar Karne Bibhinna Sangbidhanik Pratishthaner Pradhanera Pracharmukhi Huye Parechhen Ekati Pratishthaner Junior Ec Karmakarta Amake Balechhen Channel O Patrikay Pracharer Byabastha Na Thakle AC Kamrai Base Kaj Na Kare Pratidin Tanr Bus Subha Samabeshe Chhutten Na Tanra Abyahat Upadeshmulak Hunshiyarimulak Evan Atmaprashansamulak Baktrita Dichchhen Tate Prakash Pachchhe Tander Baksarbaswata Kintu Jatir Kono Upakar Hachchhe Na Dayitbashil Sangbadmadhyam Chhara Ganatantra Hya Na Amader Sangbadapatrer Pratibadi Bhumika Palner Aitihya Ache Kintu Swadhintar Par Besamrik O Samrik Adha Samrik Sarakargulo Theke Bichitrabhabe Sangbadmadhyam Akranta Hachchhe Bastut We Akraman O Chap Ganatantrer Opar Ekajan Ainabid Jodi Bichar Bibechana Na Kare Tanr Makkelake Bhool Pathe Parichalana Curren Tove Tini Naitikata Bhanger Daae Abhijukta Haben Evan Ejanya Tini Ain Peshar Adhikarao Harate Paren Thik Temni Adalat Abamanna Kakhan Kibhabe Hate Pare Say Vise Pratyeker Vishesha Kare Sangbad Madhyamer Sange Jaritder Parishkar Dharna Thaka Apariharjya Jodi Sathik Dharna Thake Tove Amader Adalat Abamanna Sankranta Mamla Mokaddamar Mukhomukhi Jeman Hate Hya Na Thik Temni Mahamanya Adalat O Bicharak Mahodayakeo Bibrat Hate Hya Na Balar Apeksha Rakhe Na Sangbadapatrer Swadhinata O Adalat Abamannar Vysya Duto Bash Sparshakatar Peshagat Dayitba Palner Xetre Amader Bisheshbhabe Smarane Rakha Darakar Je Swadhintarao Ekata Simabaddhata Rayechhe Swadhintar Earth AE Noy Je Ja Ichchhe Ta Kara Ba Lekha Sangbadikta Nihsandehe Ekati Mahan Pesa Sadiq Bibechnay Peshagat Dayitba Palner Camay Amader Uchit Bichar Bibhag O Adalat Samparke Tathya Paribeshner Age Bhalobhabe Jachai Bachhai Kara Ganaprajatantri Bangladesh Sangbidhaner 39 Nong Anuchchhede Chinta O Bibeker Swadhinata O Buck Swadhinata Samparke Bala Hayechhe Mulat Sangbidhane Chinta O Bibeker Swadhintar Nishchayata Dan Kare Bala Hayechhe ‘bangladesh Rashtrer Sarbik Nirapatta Bideshi Rashtragulor Sange Bandhutbapurna Sampark Janashrinkhala Shalinata Ba Naitiktar Swarthe Kingba Adalat Abamanna Manhani Ba Aparadh Sangathane Prarochana Samparke Ainer Dwara Aropit Juktisangat Badha Nishedh Sapekshe Rashtrer Sab Nagriker Buck Swadhintar Nishchayata Pradan Kara Holo ‘ 2007 Sale Mahamanya Haikorta Bibhager Faujdari Bidhir Kantempat Pitishan Nong 9571 2007 Rashtra Bonam Adalat Abamannakari Mamlay Swayang Mahamanya Ain Bicharapati Adalat Abamanna Samparke Rai Pradan Karate Giye Balechhen ‘bicharakara Samalochnar Urdhbe Noy Tove Say Samalochna Sangjat O Bastunishtha Hwa Darakar Ekajan Bicharker Rai Niye Bastunishtha Parjalochna Karate Ainagat Kono Prakarer Bandha Nei Kintu Pradatta Say Rayer Karne Bicharakake Byaktigatabhabe Samalochna Kara Jabe Na Pratyeker Bibechnay Rakhte Habe Amader Desher Rashtriya Ain Bicharakader Etatuku Nirapatta Janagan O Rashtrer Brihattar Swarthe Pradan Karechhen Jodi Say Rakamata Na Hato Tove Bicharker Mato Sarbadhik Gurudayitba Palan Karate Keu Raji Haten Na ‘ Bicharakara Je Samalochnar Urdhbe Ta Kakhanao Noy Tove Taur Dayabaddhata Ba Say Sab Samalochnar Dharun O Prakritite Rayechhe Bhinnata
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon
500000+ दिलचस्प सवाल जवाब सुनिये 😊

Similar Questions

More Answers


আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক স্বাধীনতার বিভিন্নরুপ, স্বাধীনতার রক্ষাকবচ, আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক।ইন্টারনেট নিয়ে আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক আয়োজিত আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন রেডিং৷ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও এফবিআই'এর অভিযানে প্রায় সাড়ে তিনশো ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন রেডিং৷ পাইরেটেড মুভি দেখা ও গান শোনার ব্যবস্থার অভিযোগে ঐসব সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়৷ অনলাইন পাইরেসি দমনে প্রায় ১৮ মাস আগে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র৷আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক এই অভিযানে সর্বশেষ বন্ধ করা হয় ‘মেগাআপলোড' নামের একটি ওয়েবসাইট৷ অনলাইনে মুভি দেখার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল এই সাইটটি৷ ইতিমধ্যে এর নির্মাতা সহ চারজনকে আটকও করা হয়েছে আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক ।
Romanized Version
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক স্বাধীনতার বিভিন্নরুপ, স্বাধীনতার রক্ষাকবচ, আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক।ইন্টারনেট নিয়ে আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক আয়োজিত আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন রেডিং৷ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও এফবিআই'এর অভিযানে প্রায় সাড়ে তিনশো ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন রেডিং৷ পাইরেটেড মুভি দেখা ও গান শোনার ব্যবস্থার অভিযোগে ঐসব সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়৷ অনলাইন পাইরেসি দমনে প্রায় ১৮ মাস আগে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র৷আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক এই অভিযানে সর্বশেষ বন্ধ করা হয় ‘মেগাআপলোড' নামের একটি ওয়েবসাইট৷ অনলাইনে মুভি দেখার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল এই সাইটটি৷ ইতিমধ্যে এর নির্মাতা সহ চারজনকে আটকও করা হয়েছে আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক । Ain O Swadhintar Sampark Swadhintar Bibhinnarup Swadhintar Rakshakabach Ain O Swadhintar Sampark Internet Niye Ain O Swadhintar Sampark Ayojit Antarjatik Ekati Sammelane Baktabya Rakhchhilen Redingr Juktarashtrer Bichar Bibhag O FBI Aare Abhijane Pray Sare Tinsho Website Bandh Kare Their Pratikriyay AE Mantabya Curren Redingr Paireted Mubhi Dekha O Gone Shonar Byabasthar Abhijoge Aisab Site Bandh Kare Dea Hayar Online Piracy Damane Pray 18 Massa Age Abhijan Shuru Kare Juktarashtrarain O Swadhintar Sampark AE Abhijane Sarbashesh Bandh Kara Hya ‘megaapalod Namer Ekati Oyebsaitar Analaine Mubhi Dekhar Janya Bash Janapriya Chhil AE Saitatir Itimadhye Aare Nirmata Huh Charajanake Atakao Kara Hayechhe Ain O Swadhintar Sampark
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon

Vokal is India's Largest Knowledge Sharing Platform. Send Your Questions to Experts.

Related Searches:Ain O Swadhintar Sampark A Alochana Kor ,Talk About The Relationship Between Law And Liberty?,


vokalandroid