আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার আলোচনা কর? ...

আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার - আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া ২[ জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি; ৩[ আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে ;] আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে; আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য; এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম। আপনারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করেন? সমাজতন্ত্র তো ব্যর্থ হয়েছে। সমাজতন্ত্রে তো ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। ধর্ম পালনের অধিকার নেই।’ ‘সকলকে সমান করতে চায় সমাজতন্ত্র। কিন্তু সকলকে কি সমান করা যায়? হাতের পাঁচ আঙুল কি সমান?’ ‘সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিটাই তো অস্বাভাবিক। খাওয়া-পড়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আবার কেউ বেশি কাজ করলেও তার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হবে না — এভাবে চললে তো মানুষের উদ্যোগ নষ্ট হবে।’ ‘সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় তো কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না। কমিউনিস্ট পার্টি যা মনে করতো তাই হতো। কোনো নির্বাচন ছিল না, মানুষের মতের কোনো বালাই ছিল না। রাশিয়ার শাসনব্যবস্থা ছিল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী।’ এমন অনেক প্রশ্ন আজ সমাজতন্ত্রকে ঘিরে। এই প্রশ্নের তালিকা আরও দীর্ঘ করা যাবে। একসময় বিশ্বের এক বিরাট অংশ জুড়ে প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক শিবির আজ আর নেই। দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনও আজ দুর্বল। তবুও এ নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। বিরুদ্ধ প্রচারণারও শেষ নেই। স্বাভাবিকভাবে তখন প্রশ্ন ওঠে, আজও এত বিরুদ্ধ প্রচারণা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা আমাদের বর্তমান সমাজটার দিকে চোখ ফেলতে চাই। কেমন চলছে আমাদের সমাজ? এ সমাজে মানুষ সুখে নেই, স্বস্তিতে নেই। অনেক আশা নিয়ে গড়ে তোলা পরিবারগুলো আজ নদীর পাড়ের মতো ভাঙছে। যত্নে গড়া স্বপ্নগুলো মারা যাচ্ছে এক এক করে। সামাজিক ব্যবস্থাটাই এমন যে, এখানে মনুষ্যোচিত জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় আয়োজন নেই। এক ভাগ লোকই বেশিরভাগ সম্পদের মালিক। বাকি নিরানব্বই ভাগ লোক সেই মালিকের মুনাফা অর্জনের জন্য যে কাজ করার, যে কথা ভাবার — তাই করছে, তাই ভাবছে। এ কারণে কাজে আনন্দ নেই। ভাবনায় সৃষ্টিশীলতা নেই। সামাজিক-পারিবারিক সম্পর্কগুলো আজ পরিণত হয়েছে আইন স্বার্থের সম্পর্কে। হৃদয়হীন এই সমাজে বাঁচতে গিয়ে প্রতিদিন হাজারো সমস্যায় জর্জরিত মানুষ তাই ভাবে, এরকম কি কোনো সমাজ হতে পারে, যেখানে জীবনের এত এত সব সংকট থেকে মুক্তির রাস্তা আছে? এক জাতির উপর আরেক জাতির, এক সম্প্রদায়ের উপর আরেক সম্প্রদায়ের, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার — এর কি কোনো শেষ নেই? শতকরা নিরানব্বই ভাগ লোকের উপর একভাগের শোষণের অবসান কি কখনও হবে? এই আর্তি আজ বিশ্বজুড়ে। আমেরিকা থেকে আরব, আফ্রিকা থেকে এশিয়া — কোথায় ফেটে পড়ছে না বিক্ষুব্ধ মানুষ? এই বিক্ষোভের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকুতি, তাই-ই তাকে বারবার নিয়ে যাচ্ছে একটা নতুন আকাঙ্খিত সমাজের দিকে। দর্শনের কাজ শুধু সমাজকে ব্যাখ্যা করা, নাকি তাকে পাল্টানোও? সমাজের পরিবর্তন কীভাবে হবে? পরিবর্তন কারা করবে? — এই প্রশ্নগুলো নিয়ে বহু দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী আলোচনা করেছেন, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রেখেছেন। এসব আলোচনায় অনেকেরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও তার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এসেছে, এভাবেই সামাজিক পরিবর্তনের নানা কারণ তারা তুলে ধরেছেন। কিন্তু এই কারণ অনুসন্ধান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক হওয়ার কারণে তারা অতীতের পরিবর্তনের নিয়মকে ধরতে পারেননি, সেগুলোকে সূত্রবদ্ধও করতে পারেননি। একইসাথে ভবিষ্যতে কীভাবে এ সমাজ আবারও পরিবর্তিত হবে তারও সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেননি। তবে সেই আলোচনাগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা অভিজ্ঞতাবাদী জ্ঞান পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানের জন্ম দিয়েছে। মার্কসবাদই প্রথম দর্শন যেখানে সামাজিক ও প্রাকৃতিক জগতের সমস্ত কিছুকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কসবাদের আগের সমস্ত দর্শনই শুধুমাত্র সমাজকে ব্যাখ্যা করেছে, মার্কসবাদই প্রথম দেখিয়েছে — কীভাবে একে পরিবর্তন করা যায়। মানবজাতির শ্রেষ্ঠ মনীষীদের মনোজগতে যেসব প্রশ্ন এযাবৎকালে এসেছিল, তার উত্তর দিয়েছে মার্কসবাদ। মার্কসবাদের উদ্ভব ঘটেছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ইউরোপের যখন শ্রেষ্ঠ সময়, সেই সময়কালে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে জার্মানির দর্শন, ইংল্যান্ডের অর্থশাস্ত্র এবং ফ্রান্সের সমাজতত্ত্বের চূড়ান্ত বিকাশের পর্বে তাদের শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী হিসাবে মার্কসবাদের জন্ম। সংক্ষেপে এর মূল বিষয়গুলোকে এভাবে তুলে ধরা যায় — মার্কসবাদী দর্শনের ভিত্তি হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। এর মানে হলো — জগৎ বস্তুময়। প্রত্যেকটি বস্তু পরস্পর বিপরীত সত্ত্বার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। এই বিপরীত সত্ত্বার মধ্যে সবসময় দ্বন্দ্ব চলতে থাকে এবং এ কারণে বস্তুর অভ্যন্তরে গতির সৃষ্টি হয়। গতির কারণে বস্তুর রূপের পরিবর্তন ঘটে। প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাণগত পরিবর্তন হয়। এই পরিমাণগত পরিবর্তন একসময় গুণগত রূপ পায়। ক্রমান্বয়ে একটি বস্তু সম্পূর্ণ নতুন একটি বস্তুতে পরিবর্তিত হয়। আবার গুণগত পরিবর্তন সামগ্রিক অর্থে পরিমাণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। বস্তুজগৎ মানুষের চিন্তা নিরপেক্ষভাবে অবস্থান করে। বস্তুজগতের সাথে মানব মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জ্ঞান সৃষ্টি হয়। যেকোন সমাজে অর্থনীতি হলো ভিত্তি এবং রাজনীতি, দর্শন, মানবিক ভাবাবেগ সমস্ত কিছুই হলো উপরিকাঠামো। ভিত্তির প্রকৃতির উপর যেমন উপরিকাঠামোর প্রকৃতি আইন নির্ধারিত হয় তেমনি উপরিকাঠামোও কখনো ভিত্তির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দু’য়ের সম্পর্ক দ্বান্দ্বিক। মার্কসবাদ প্রথম দেখালো, প্রতিটি পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় সামাজিকভাবে আবশ্যক শ্রমসময়ের উপর। মানুষের শ্রম ছাড়া জগতের কোনো কিছুই সৃষ্টি হয় না। আইন পুঁজিবাদী সমাজে মানুষের শ্রমও হয়েছে পণ্য। মজুরি শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করছে শ্রমের যন্ত্রের মালিকের কাছে। শ্রমিকের শ্রমের একটা অংশ ব্যয় হয় তার নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য, যার জন্য সে মজুরি পায়। আর আরেকটি অংশ ব্যয় হয় মালিকের জন্য, যেটা সে করে বিনা মজুরিতে। মার্কস এর নাম দিয়েছিলেন ‘উদ্বৃত্ত মূল্যতত্ত্ব’। পুঁজিবাদী অর্থনীতির এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাকে একটা অনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। মার্কসবাদ দেখিয়েছে, সমাজটা সবসময় একরকম ছিল না। নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে মানুষ সমাজকে পাল্টিয়েছে। মানব সভ্যতার শুরুতে ছিল আদিম গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ। এই সমাজে কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। যে অল্প পরিমাণ সম্পদ উৎপাদিত হতো তাই ভাগাভাগি করে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতো সেকালের মানুষ। উদ্বৃত্ত সম্পদ না থাকায় সঞ্চয়ের ভাবনাও আসেনি। ফলে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণাও আসেনি। তাই কোনো শ্রেণিও ছিল না। কিন্তু আস্তে আস্তে আপেক্ষিক অর্থে সম্পদের পরিমাণ বাড়তে থাকে, কিছু উদ্বৃত্ত সম্পদ তৈরি হয়। আর একদল লোক গায়ের জোরে সেই উদ্বৃত্ত সম্পদ দখল করে তার ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে। মালিকানার প্রশ্নটি চলে আসার পর সম্পদের মালিকানাকে কেন্দ্র করে সমাজ শ্রেণিবিভক্ত হয়ে পড়ে। সমাজে এই প্রথম পরস্পর বিপরীত দুটি শ্রেণির জন্ম হয়- দাস ও দাস মালিক শ্রেণি। দাস সমাজ পাল্টে হয় সামন্ত সমাজ, যেখানে ভূস্বামী/রাজা এবং ভূমিদাস নামের দুটি শ্রেণির জন্ম হয়। সামন্ত সমাজের গর্ভে বণিকী ব্যবস্থার সূচনা হয়। এই বণিকী ব্যবস্থা পরবর্তীতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার জন্ম দেয়। আবির্ভূত হয় পুঁজির মালিক এবং শ্রমিক — এই দুটি শ্রেণি। এই সমাজ পরিবর্তিত হয়ে একদিন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। যে সমাজে কোনো শ্রেণি থাকবে না, শ্রেণি বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না মানুষের দ্বারা মানুষের ওপর শোষণ। তবে তেমন একটি সমাজে যাবার আগে মানুষকে আরেকটি সমাজব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যার নাম সমাজতন্ত্র। সমাজতন্ত্রেও পুঁজিবাদের মতো শ্রেণি থাকে, কিন্তু শ্রেণিবৈষম্য থাকে না। ক্ষমতায় থাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষক শ্রেণি। সমাজতন্ত্রকে বলা হয় পুঁজিবাদ থেকে সাম্যবাদে যাবার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। বস্তুজগৎ ও সমাজ পরিবর্তনের নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে পৃথিবীর দার্শনিকদের মধ্যে এতদিন ধরে যে অস্পষ্টতা-ধোঁয়াশা ছিল, মার্কসবাদী দর্শন তাকে দূর করে দিল। মাকর্সবাদই প্রথম ইতিহাসের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যার সাহায্যে দেখালো — সমাজবিকাশের ধারায় কীভাবে পরিবার, আইন ,ব্যক্তিগত মালিকানা, রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। আর সেই রাষ্ট্র যা এক শ্রেণি কর্তৃক আরেক শ্রেণিকে নিপীড়নের যন্ত্র মাত্র। এই রাষ্ট্রও কীভাবে ইহিতাসের গতিপথে একদিন বিলুপ্ত হবে, কোন শ্রেণি এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে — মার্কসবাদই এক্ষেত্রে একমাত্র সঠিক পথনির্দেশ করেছে। সমাজতন্ত্র কি দিয়েছিল মানব সভ্যতাকে? ১৯১৭ সালের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আগে রাশিয়া ছিল বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির অন্যতম। বিপ্লবের পরেও ক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হয়নি, তার জন্য অশেষ মূল্য দিতে হয়েছে। বিপ্লবের পর ১৪টি দেশ মিলে রাশিয়া আক্রমণ করেছে। ১৯১৮ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র গৃহযুদ্ধতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে ১৯২১-২২ সালে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। এসব বাধা মোকাবেলা করে বিশ্বের দ্বিতীয় শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে রাশিয়া দাঁড়িয়েছিল ১৯৩৩ সালে। সংগীত, সাহিত্য, স্থাপত্য, খেলাধুলা — সবকিছুতেই বাধাহীন এগিয়ে যেতে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েতের শিক্ষা ছিল বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বেতন তো দিতে হতই না বরং বেশিরভাগ ছাত্রকে বৃত্তি দেয়া হত লেখাপড়ার জন্য। শিক্ষা শেষে সকলেরই কাজের ব্যবস্থা ছিল। বেকার সমস্যাকে নির্মূল করতে পেরেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন যা আজ পর্যন্ত কোনো পুঁজিবাদী দেশ পারেনি। শ্রমিকদের দিনে সর্বোচ্চ আট ঘন্টা শ্রম দিতে হত, গড়ে তা ছিল সাত ঘন্টা। প্রতিবছর তারা বেতনসহ ছুটি পেত। অসুস্থ হলেও পুরো মজুরি পেত। মানবিক বিকাশের জন্য শ্রমিক-কৃষক সমস্ত স্তরের মানুষের জন্য বিনোদনের আয়োজন অবারিত করেছিল। তাদের অবসর কাটানোর জন্য ছিল পর্যাপ্ত পার্ক, থিয়েটারসহ প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৮৫টি জাতি ও ১৪৭টি ভাষার মধ্যে কোনও একটা বিশেষ জাতি বা ভাষার কৃত্রিম প্রাধান্য ছিল না। যে সকল ভাষার লিপি নেই সেসকল ভাষার লিপি তৈরি করে দিয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকল জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিকশিত করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। তাই বই প্রকাশের সংখ্যাও ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে বিপুল। শুধু পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা একত্রে ইংল্যা-, জার্মানী ও জাপান অপেক্ষা বেশি ছিল। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত নয়টি শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ৭টিতেই সর্বোচ্চ পদক বিজয়ী হয়েছিল। সমাজতন্ত্র কি একটা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা? ‘জনগণের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করে না সমাজতান্ত্রিক সমাজ’ — সম্পূর্ণ ভুল এই ধারণা চলে আসছে বহুদিন ধরে। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতে জনপ্রতিনিধিরা শুধু নির্বাচিত হতেন তা নয়, যারা তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করত, তারা যেকোন সময় প্রতিনিধিদের ‘রি কল’ করতে পারত। অর্থাৎ প্রতিনিধিদের কারও উপর অনাস্থা তৈরি হলে ভোটাররা তাকে ফিরিয়ে নিতে পারত, তার বদলে অন্য কাউকে নির্বাচিত করতে পারত। বিচার বিভাগ, পুলিশ, মিলিটারি এমনকি শিক্ষক পর্যন্ত সমস্ত পদাধিকারি নির্বাচিত হতেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়োজিতদের ভোটে। এমন ব্যাপক গণতন্ত্র আজকের কোনো পুঁজিবাদী দেশে ভাবাই যায় না। ‘সোভিয়েত ব্যবস্থার’ মাধ্যমে রাশিয়ার শাসন পরিচালিত হত। এ ব্যবস্থাটা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে বিভ্রান্তি জন্ম নেয়া স্বাভাবিক। বর্তমানে আমেরিকা, ইংল্যা-, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিশ্বের যেকোন দেশের কথাই ধরি না কেন, সেখানে যে গণতন্ত্র প্রচলিত আছে, তাতে মত প্রকাশের কতটুকু স্বাধীনতা আছে? গণতন্ত্রের যে প্রাথমিক শর্ত ‘জনগণের মতামত’ — তার কতটুকু প্রতিফলন এখানে ঘটে? এই দেশগুলোতে টাকা, ক্ষমতা, মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। নির্বাচন সেখানে নাটকমাত্র। আমাদের দেশের কথা ছেড়েই দিলাম, গণতন্ত্রের ‘তীর্থস্থান’ আমেরিকার নির্বাচন আমরা দেখছি না? কোনো ছোট দল কি সেখানে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিততে পারে? এর উত্তরের কোনো আবশ্যকতা নেই। ঐ সকল দেশে গণতন্ত্র বাস্তবে দ্বিদলীয় স্বৈরাচারী ব্যবস্থাই। অনেকে বলেন, এই দুটি দলকে তো জনগণই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। জনগণের মত যদি দুটি দলের পক্ষেই যায় তো কী করার আছে?
Romanized Version
আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার - আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া ২[ জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি; ৩[ আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে ;] আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে; আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য; এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম। আপনারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করেন? সমাজতন্ত্র তো ব্যর্থ হয়েছে। সমাজতন্ত্রে তো ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। ধর্ম পালনের অধিকার নেই।’ ‘সকলকে সমান করতে চায় সমাজতন্ত্র। কিন্তু সকলকে কি সমান করা যায়? হাতের পাঁচ আঙুল কি সমান?’ ‘সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিটাই তো অস্বাভাবিক। খাওয়া-পড়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আবার কেউ বেশি কাজ করলেও তার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হবে না — এভাবে চললে তো মানুষের উদ্যোগ নষ্ট হবে।’ ‘সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় তো কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না। কমিউনিস্ট পার্টি যা মনে করতো তাই হতো। কোনো নির্বাচন ছিল না, মানুষের মতের কোনো বালাই ছিল না। রাশিয়ার শাসনব্যবস্থা ছিল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী।’ এমন অনেক প্রশ্ন আজ সমাজতন্ত্রকে ঘিরে। এই প্রশ্নের তালিকা আরও দীর্ঘ করা যাবে। একসময় বিশ্বের এক বিরাট অংশ জুড়ে প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক শিবির আজ আর নেই। দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনও আজ দুর্বল। তবুও এ নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। বিরুদ্ধ প্রচারণারও শেষ নেই। স্বাভাবিকভাবে তখন প্রশ্ন ওঠে, আজও এত বিরুদ্ধ প্রচারণা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা আমাদের বর্তমান সমাজটার দিকে চোখ ফেলতে চাই। কেমন চলছে আমাদের সমাজ? এ সমাজে মানুষ সুখে নেই, স্বস্তিতে নেই। অনেক আশা নিয়ে গড়ে তোলা পরিবারগুলো আজ নদীর পাড়ের মতো ভাঙছে। যত্নে গড়া স্বপ্নগুলো মারা যাচ্ছে এক এক করে। সামাজিক ব্যবস্থাটাই এমন যে, এখানে মনুষ্যোচিত জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় আয়োজন নেই। এক ভাগ লোকই বেশিরভাগ সম্পদের মালিক। বাকি নিরানব্বই ভাগ লোক সেই মালিকের মুনাফা অর্জনের জন্য যে কাজ করার, যে কথা ভাবার — তাই করছে, তাই ভাবছে। এ কারণে কাজে আনন্দ নেই। ভাবনায় সৃষ্টিশীলতা নেই। সামাজিক-পারিবারিক সম্পর্কগুলো আজ পরিণত হয়েছে আইন স্বার্থের সম্পর্কে। হৃদয়হীন এই সমাজে বাঁচতে গিয়ে প্রতিদিন হাজারো সমস্যায় জর্জরিত মানুষ তাই ভাবে, এরকম কি কোনো সমাজ হতে পারে, যেখানে জীবনের এত এত সব সংকট থেকে মুক্তির রাস্তা আছে? এক জাতির উপর আরেক জাতির, এক সম্প্রদায়ের উপর আরেক সম্প্রদায়ের, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার — এর কি কোনো শেষ নেই? শতকরা নিরানব্বই ভাগ লোকের উপর একভাগের শোষণের অবসান কি কখনও হবে? এই আর্তি আজ বিশ্বজুড়ে। আমেরিকা থেকে আরব, আফ্রিকা থেকে এশিয়া — কোথায় ফেটে পড়ছে না বিক্ষুব্ধ মানুষ? এই বিক্ষোভের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকুতি, তাই-ই তাকে বারবার নিয়ে যাচ্ছে একটা নতুন আকাঙ্খিত সমাজের দিকে। দর্শনের কাজ শুধু সমাজকে ব্যাখ্যা করা, নাকি তাকে পাল্টানোও? সমাজের পরিবর্তন কীভাবে হবে? পরিবর্তন কারা করবে? — এই প্রশ্নগুলো নিয়ে বহু দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী আলোচনা করেছেন, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রেখেছেন। এসব আলোচনায় অনেকেরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও তার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এসেছে, এভাবেই সামাজিক পরিবর্তনের নানা কারণ তারা তুলে ধরেছেন। কিন্তু এই কারণ অনুসন্ধান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক হওয়ার কারণে তারা অতীতের পরিবর্তনের নিয়মকে ধরতে পারেননি, সেগুলোকে সূত্রবদ্ধও করতে পারেননি। একইসাথে ভবিষ্যতে কীভাবে এ সমাজ আবারও পরিবর্তিত হবে তারও সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেননি। তবে সেই আলোচনাগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা অভিজ্ঞতাবাদী জ্ঞান পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানের জন্ম দিয়েছে। মার্কসবাদই প্রথম দর্শন যেখানে সামাজিক ও প্রাকৃতিক জগতের সমস্ত কিছুকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কসবাদের আগের সমস্ত দর্শনই শুধুমাত্র সমাজকে ব্যাখ্যা করেছে, মার্কসবাদই প্রথম দেখিয়েছে — কীভাবে একে পরিবর্তন করা যায়। মানবজাতির শ্রেষ্ঠ মনীষীদের মনোজগতে যেসব প্রশ্ন এযাবৎকালে এসেছিল, তার উত্তর দিয়েছে মার্কসবাদ। মার্কসবাদের উদ্ভব ঘটেছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ইউরোপের যখন শ্রেষ্ঠ সময়, সেই সময়কালে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে জার্মানির দর্শন, ইংল্যান্ডের অর্থশাস্ত্র এবং ফ্রান্সের সমাজতত্ত্বের চূড়ান্ত বিকাশের পর্বে তাদের শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী হিসাবে মার্কসবাদের জন্ম। সংক্ষেপে এর মূল বিষয়গুলোকে এভাবে তুলে ধরা যায় — মার্কসবাদী দর্শনের ভিত্তি হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। এর মানে হলো — জগৎ বস্তুময়। প্রত্যেকটি বস্তু পরস্পর বিপরীত সত্ত্বার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। এই বিপরীত সত্ত্বার মধ্যে সবসময় দ্বন্দ্ব চলতে থাকে এবং এ কারণে বস্তুর অভ্যন্তরে গতির সৃষ্টি হয়। গতির কারণে বস্তুর রূপের পরিবর্তন ঘটে। প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাণগত পরিবর্তন হয়। এই পরিমাণগত পরিবর্তন একসময় গুণগত রূপ পায়। ক্রমান্বয়ে একটি বস্তু সম্পূর্ণ নতুন একটি বস্তুতে পরিবর্তিত হয়। আবার গুণগত পরিবর্তন সামগ্রিক অর্থে পরিমাণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। বস্তুজগৎ মানুষের চিন্তা নিরপেক্ষভাবে অবস্থান করে। বস্তুজগতের সাথে মানব মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জ্ঞান সৃষ্টি হয়। যেকোন সমাজে অর্থনীতি হলো ভিত্তি এবং রাজনীতি, দর্শন, মানবিক ভাবাবেগ সমস্ত কিছুই হলো উপরিকাঠামো। ভিত্তির প্রকৃতির উপর যেমন উপরিকাঠামোর প্রকৃতি আইন নির্ধারিত হয় তেমনি উপরিকাঠামোও কখনো ভিত্তির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দু’য়ের সম্পর্ক দ্বান্দ্বিক। মার্কসবাদ প্রথম দেখালো, প্রতিটি পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় সামাজিকভাবে আবশ্যক শ্রমসময়ের উপর। মানুষের শ্রম ছাড়া জগতের কোনো কিছুই সৃষ্টি হয় না। আইন পুঁজিবাদী সমাজে মানুষের শ্রমও হয়েছে পণ্য। মজুরি শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করছে শ্রমের যন্ত্রের মালিকের কাছে। শ্রমিকের শ্রমের একটা অংশ ব্যয় হয় তার নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য, যার জন্য সে মজুরি পায়। আর আরেকটি অংশ ব্যয় হয় মালিকের জন্য, যেটা সে করে বিনা মজুরিতে। মার্কস এর নাম দিয়েছিলেন ‘উদ্বৃত্ত মূল্যতত্ত্ব’। পুঁজিবাদী অর্থনীতির এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাকে একটা অনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। মার্কসবাদ দেখিয়েছে, সমাজটা সবসময় একরকম ছিল না। নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে মানুষ সমাজকে পাল্টিয়েছে। মানব সভ্যতার শুরুতে ছিল আদিম গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ। এই সমাজে কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। যে অল্প পরিমাণ সম্পদ উৎপাদিত হতো তাই ভাগাভাগি করে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতো সেকালের মানুষ। উদ্বৃত্ত সম্পদ না থাকায় সঞ্চয়ের ভাবনাও আসেনি। ফলে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণাও আসেনি। তাই কোনো শ্রেণিও ছিল না। কিন্তু আস্তে আস্তে আপেক্ষিক অর্থে সম্পদের পরিমাণ বাড়তে থাকে, কিছু উদ্বৃত্ত সম্পদ তৈরি হয়। আর একদল লোক গায়ের জোরে সেই উদ্বৃত্ত সম্পদ দখল করে তার ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে। মালিকানার প্রশ্নটি চলে আসার পর সম্পদের মালিকানাকে কেন্দ্র করে সমাজ শ্রেণিবিভক্ত হয়ে পড়ে। সমাজে এই প্রথম পরস্পর বিপরীত দুটি শ্রেণির জন্ম হয়- দাস ও দাস মালিক শ্রেণি। দাস সমাজ পাল্টে হয় সামন্ত সমাজ, যেখানে ভূস্বামী/রাজা এবং ভূমিদাস নামের দুটি শ্রেণির জন্ম হয়। সামন্ত সমাজের গর্ভে বণিকী ব্যবস্থার সূচনা হয়। এই বণিকী ব্যবস্থা পরবর্তীতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার জন্ম দেয়। আবির্ভূত হয় পুঁজির মালিক এবং শ্রমিক — এই দুটি শ্রেণি। এই সমাজ পরিবর্তিত হয়ে একদিন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। যে সমাজে কোনো শ্রেণি থাকবে না, শ্রেণি বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না মানুষের দ্বারা মানুষের ওপর শোষণ। তবে তেমন একটি সমাজে যাবার আগে মানুষকে আরেকটি সমাজব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যার নাম সমাজতন্ত্র। সমাজতন্ত্রেও পুঁজিবাদের মতো শ্রেণি থাকে, কিন্তু শ্রেণিবৈষম্য থাকে না। ক্ষমতায় থাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষক শ্রেণি। সমাজতন্ত্রকে বলা হয় পুঁজিবাদ থেকে সাম্যবাদে যাবার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। বস্তুজগৎ ও সমাজ পরিবর্তনের নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে পৃথিবীর দার্শনিকদের মধ্যে এতদিন ধরে যে অস্পষ্টতা-ধোঁয়াশা ছিল, মার্কসবাদী দর্শন তাকে দূর করে দিল। মাকর্সবাদই প্রথম ইতিহাসের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যার সাহায্যে দেখালো — সমাজবিকাশের ধারায় কীভাবে পরিবার, আইন ,ব্যক্তিগত মালিকানা, রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। আর সেই রাষ্ট্র যা এক শ্রেণি কর্তৃক আরেক শ্রেণিকে নিপীড়নের যন্ত্র মাত্র। এই রাষ্ট্রও কীভাবে ইহিতাসের গতিপথে একদিন বিলুপ্ত হবে, কোন শ্রেণি এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে — মার্কসবাদই এক্ষেত্রে একমাত্র সঠিক পথনির্দেশ করেছে। সমাজতন্ত্র কি দিয়েছিল মানব সভ্যতাকে? ১৯১৭ সালের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আগে রাশিয়া ছিল বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির অন্যতম। বিপ্লবের পরেও ক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হয়নি, তার জন্য অশেষ মূল্য দিতে হয়েছে। বিপ্লবের পর ১৪টি দেশ মিলে রাশিয়া আক্রমণ করেছে। ১৯১৮ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র গৃহযুদ্ধতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে ১৯২১-২২ সালে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। এসব বাধা মোকাবেলা করে বিশ্বের দ্বিতীয় শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে রাশিয়া দাঁড়িয়েছিল ১৯৩৩ সালে। সংগীত, সাহিত্য, স্থাপত্য, খেলাধুলা — সবকিছুতেই বাধাহীন এগিয়ে যেতে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েতের শিক্ষা ছিল বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বেতন তো দিতে হতই না বরং বেশিরভাগ ছাত্রকে বৃত্তি দেয়া হত লেখাপড়ার জন্য। শিক্ষা শেষে সকলেরই কাজের ব্যবস্থা ছিল। বেকার সমস্যাকে নির্মূল করতে পেরেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন যা আজ পর্যন্ত কোনো পুঁজিবাদী দেশ পারেনি। শ্রমিকদের দিনে সর্বোচ্চ আট ঘন্টা শ্রম দিতে হত, গড়ে তা ছিল সাত ঘন্টা। প্রতিবছর তারা বেতনসহ ছুটি পেত। অসুস্থ হলেও পুরো মজুরি পেত। মানবিক বিকাশের জন্য শ্রমিক-কৃষক সমস্ত স্তরের মানুষের জন্য বিনোদনের আয়োজন অবারিত করেছিল। তাদের অবসর কাটানোর জন্য ছিল পর্যাপ্ত পার্ক, থিয়েটারসহ প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৮৫টি জাতি ও ১৪৭টি ভাষার মধ্যে কোনও একটা বিশেষ জাতি বা ভাষার কৃত্রিম প্রাধান্য ছিল না। যে সকল ভাষার লিপি নেই সেসকল ভাষার লিপি তৈরি করে দিয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকল জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিকশিত করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। তাই বই প্রকাশের সংখ্যাও ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে বিপুল। শুধু পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা একত্রে ইংল্যা-, জার্মানী ও জাপান অপেক্ষা বেশি ছিল। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত নয়টি শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ৭টিতেই সর্বোচ্চ পদক বিজয়ী হয়েছিল। সমাজতন্ত্র কি একটা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা? ‘জনগণের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করে না সমাজতান্ত্রিক সমাজ’ — সম্পূর্ণ ভুল এই ধারণা চলে আসছে বহুদিন ধরে। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতে জনপ্রতিনিধিরা শুধু নির্বাচিত হতেন তা নয়, যারা তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করত, তারা যেকোন সময় প্রতিনিধিদের ‘রি কল’ করতে পারত। অর্থাৎ প্রতিনিধিদের কারও উপর অনাস্থা তৈরি হলে ভোটাররা তাকে ফিরিয়ে নিতে পারত, তার বদলে অন্য কাউকে নির্বাচিত করতে পারত। বিচার বিভাগ, পুলিশ, মিলিটারি এমনকি শিক্ষক পর্যন্ত সমস্ত পদাধিকারি নির্বাচিত হতেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়োজিতদের ভোটে। এমন ব্যাপক গণতন্ত্র আজকের কোনো পুঁজিবাদী দেশে ভাবাই যায় না। ‘সোভিয়েত ব্যবস্থার’ মাধ্যমে রাশিয়ার শাসন পরিচালিত হত। এ ব্যবস্থাটা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে বিভ্রান্তি জন্ম নেয়া স্বাভাবিক। বর্তমানে আমেরিকা, ইংল্যা-, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিশ্বের যেকোন দেশের কথাই ধরি না কেন, সেখানে যে গণতন্ত্র প্রচলিত আছে, তাতে মত প্রকাশের কতটুকু স্বাধীনতা আছে? গণতন্ত্রের যে প্রাথমিক শর্ত ‘জনগণের মতামত’ — তার কতটুকু প্রতিফলন এখানে ঘটে? এই দেশগুলোতে টাকা, ক্ষমতা, মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। নির্বাচন সেখানে নাটকমাত্র। আমাদের দেশের কথা ছেড়েই দিলাম, গণতন্ত্রের ‘তীর্থস্থান’ আমেরিকার নির্বাচন আমরা দেখছি না? কোনো ছোট দল কি সেখানে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিততে পারে? এর উত্তরের কোনো আবশ্যকতা নেই। ঐ সকল দেশে গণতন্ত্র বাস্তবে দ্বিদলীয় স্বৈরাচারী ব্যবস্থাই। অনেকে বলেন, এই দুটি দলকে তো জনগণই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। জনগণের মত যদি দুটি দলের পক্ষেই যায় তো কী করার আছে? Ain O Swadhinata Paraspar Birodhi Uktiti Car - Amara Bangladesher Janagan 1971 Khrishtabder Marsa Maser 26 Tarikhe Swadhinata Ghoshna Kariya 2 Jatiya Muktir Janya Aitihasik Sangramer Madhyame Sweden O Sarbabhaum Ganaprajatantri Bangladesh Pratishthit Kariyachhi 3 Amara Angikar Karitechhi Je Je Sakal Mahan Adarsh Amader Bir Janaganake Jatiya Mukti Sangrame Atmaniyog O Bir Shahiddigke Pranotsarg Karite Udwuddha Kariyachhil Jatiytabad Samajatantra Ganatantra O Dharmanirpekshatar Sei Sakal Adarsh AE Sangbidhaner Mulniti Haibe ;] Amara RO Angikar Karitechhi Je Amader Rashtrer Anyatam Mul Lakshya Haibe Ganatantrik Paddhatite Eman Ec Shoshanamukta Samajtantrik Samajer Pratishtha Jekhanay Sakal Nagriker Janya Ainer Hasn Maulik Manbadhikar Evan Rajnaitik Arthanaitik O Samajik Samya Swadhinata O Subichar Nishchit Haibe Amara Dridhbhabe Ghoshna Karitechhi Je Amara Jahate Sweden Sattay Samriddhi Love Karite Pari Evan Manabajatir Pragatishil Asha Akankhar Sahit Sangati Raksha Kariya Antarjatik Shanti O Sahajogitar Xetre Purna Bhumika Palan Karite Pari Seijanya Bangladesher Janaganer Abhiprayer Abhibyaktiswarup AE Sangbidhaner Pradhanya Akshunna Rakha Evan Ihar Rakshan Samarthan O Nirapattabidhan Amader Pavitra Kartabya Etadwara Amader AE Ganaparishde Adya Ter Shat Unashi Bangabder Karthik Maser Atharo Tarikh Motabek Unish Shat Bahattar Khrishtabder Nabhembar Maser CHAR Tarikhe Amara AE Sangbidhan Rachana O Bidhibaddha Kariya Samabetbhabe Grahan Karilam Apanara Samajatantre Biswas Curren Samajatantra Toh Byartha Hayechhe Samajatantre Toh Byakti Swadhinata Nei Dharm Palner Adhikar Nei ’ ‘sakalake Saman Karate Chay Samajatantra Kintu Sakalake Ki Saman Kara Jay Hater Paanch Angul Ki Saman ’ ‘samajtantrik Arthanititai Toh Aswabhabik Khawa Parar Dayitba Rashtrer Abar Keu Bedshee Kaj Karaleo Taur Byaktigat Kono Love Habe Na — Ebhabe Chalale Toh Manusher Udyog Nashta Habe ’ ‘samajtantrik Rashtra Parichalnay Toh Kono Ganatantrik Prakriya Chhil Na Communists Party Ja Money Karato Tai Hato Kono Nirbachan Chhil Na Manusher Matter Kono Balai Chhil Na Rashiyar Shasanabyabastha Chhil Aganatantrik O Swairachari ’ Eman Anek Prashna Az Samajatantrake Ghire AE Prashner Talika RO Dirgh Kara Jabe Ekasamay Bishwer Ec Birat Angsh Jure Pratishthit Samajtantrik Shibir Az Are Nei Deshe Deshe Samajtantrik Andolanao Az Durbal Tabuo A Niye Alochana Theme Nei Biruddha Pracharnarao Sesh Nei Swabhabikbhabe Takhan Prashna Othe Ajao Et Biruddha Pracharana Can A Prashner Uttar Khunjate Giye Amara Amader Bartaman Samajtar Dike Chokh Felte Chai Keymon Chalachhe Amader Samaj A Samaje Manus Sukhe Nei Swastite Nei Anek Asha Niye Gare Tola Paribargulo Az Nadir Parer Mato Bhangchhe Jatne Gara Swapnagulo Mara Jachchhe Ec Ec Kare Samajik Byabasthatai Eman Je Ekhane Manushyochit Jeevan Japner Prayojniya Ayojan Nei Ec Bhag Lokai Beshirbhag Sampader Malik Bace Niranabbai Bhag Loka Sei Maliker Munafa Arjaner Janya Je Kaj Karar Je Katha Bhabar — Tai Karachhe Tai Bhabchhe A Karne Kaje Ananth Nei Bhabnay Srishtishilta Nei Samajik Paribarik Samparkagulo Az Parinat Hayechhe Ain Swarther Samparke Hridayahin AE Samaje Banchate Giye Pratidin Hajaro Samasyay Jarjarit Manus Tai Bhabe Erakam Ki Kono Samaj Hate Pare Jekhanay Jibner Et Et Sab Sankat Theke Muktir Rostaa Ache Ec Jatir Upar Arek Jatir Ec Sampradayer Upar Arek Sampradayer Durbaler Upar Sabaler Atyachar — Aare Ki Kono Sesh Nei Shatakara Niranabbai Bhag Loker Upar Ekabhager Shoshner Abasan Ki Kakhanao Habe AE Aarti Az Bishwajure America Theke Arab Afrika Theke Eshiya — Kothay Fete Parachhe Na Bikshubdha Manus AE Bikshobher Madhye Paribartaner Je Akuti Tai E Take Barbar Niye Jachchhe Ekata NATUN Akankhit Samajer Dike Darshaner Kaj Shudhu Samajake Byakhya Kara Naki Take Paltanoo Samajer Parivartan Kibhabe Habe Parivartan Kara Karabe — AE Prashnagulo Niye Bahu Darshanik O Samajbigyani Alochana Karechhen Byakhya Bishleshan Rekhechhen Esab Alochnay Anekerai Byaktigat Abhigyata O Taur Bhittite Byaktigat Byakhya Bishleshan Esechhe Ebhabei Samajik Paribartaner Nana Karan Tara Tule Dharechhen Kintu AE Karan Anusandhan Byaktigat Abhigyatabhittik Hwar Karne Tara Atiter Paribartaner Niyamake Dharate Parenani Seguloke Sutrabaddhao Karate Parenani Ekaisathe Bhabishyate Kibhabe A Samaj Abarao Paribartit Habe Tarao Sathik Nirdeshana Dite Parenani Tove Sei Alochnaguloo Atyanta Gurutbapurna Chhil Kenna Abhigyatabadi Gyan Parjayakrame Bigyanabhittik Gyaner Janma Diyechhe Markasabadai Pratham Darshan Jekhanay Samajik O Praakritik Jagater Samasta Kichhuke Bigyaner Aloke Byakhya Karar Cheshta Kara Hayechhe Markasabader Ager Samasta Darshanai Shudhumatra Samajake Byakhya Karechhe Markasabadai Pratham Dekhiyechhe — Kibhabe Aka Parivartan Kara Jay Manabajatir Shrestha Manishider Manojagate Jesab Prashna Ejabtkale Esechhil Taur Uttar Diyechhe Markasabad Markasabader Udbhav Ghatechhil Gyan Bigyaner Xetre Yuroper Jakhan Shrestha Samay Sei Samayakale RO Sunirdishtabhabe Balale Jarmanir Darshan Inglyander Arthashastra Evan Franser Samajatattber Churanta Bikasher Parbe Tader Shrestha Uttaradhikari Hisabe Markasabader Janma Sankshepe Aare Mul Bishayaguloke Ebhabe Tule Dhara Jay — Markasabadi Darshaner Bhitti Holo Dwandwik Bastubad Aare Mane Holo — Jagt Bastumay Pratyekati Bastu Paraspar Biprit Sattbar Upasthitir Madhya Diye Parichalit Hay AE Biprit Sattbar Madhye Sabasamay Dwandwa Chalate Thake Evan A Karne Bastur Abhyantare Gatir Srishti Hay Gatir Karne Bastur Ruper Parivartan Ghate Prathame Xudra Xudra Parimanagat Parivartan Hay AE Parimanagat Parivartan Ekasamay Gunagat Roopa Pay Kramanwaye Ekati Bastu Sampurna NATUN Ekati Bastute Paribartit Hay Abar Gunagat Parivartan Samagrik Arthe Parimanagat Paribartane Bhumika Rakhe Bastujagt Manusher Chinta Nirpekshabhabe Abasthan Kare Bastujagater Sathe Menabe Mastishker Kriya Pratikriyar Madhya Diye Gyan Srishti Hay Jekon Samaje Arthaniti Holo Bhitti Evan Rajniti Darshan Manbik Bhababeg Samasta Kichhui Holo Uparikathamo Bhittir Prakritir Upar Jeman Uparikathamor Prakriti Ain Nirdharit Hay Temni Uparikathamoo Kakhano Bhittir Paribartane Gurutbapurna Bhumika Rakhe A Duoyer Sampark Dwandwik Markasabad Pratham Dekhalo Pratiti Panyer Mulya Nirdharit Hay Samajikbhabe Aawashyak Shramasamayer Upar Manusher Shram Chhara Jagater Kono Kichhui Srishti Hay Na Ain Punjibadi Samaje Manusher Shramao Hayechhe Panya Majuri Shramik Taur Shramashakti Bikri Karachhe Shramer Jantrer Maliker Kachhe Shramiker Shramer Ekata Angsh Byay Hay Taur Nizar O Paribarer Bharan Poshner Janya Jar Janya Say Majuri Pay Are Arekati Angsh Byay Hay Maliker Janya Jeta Say Kare Vinaa Majurite Marks Aare NAM Diyechhilen ‘udwritta Mulyatattbo Punjibadi Arthanitir AE Vishesha Baishishtya Take Ekata Anaitik Byabasthay Parinat Karechhe Markasabad Dekhiyechhe Samajata Sabasamay Ekarakam Chhil Na Nana Utthan Pataner Madhya Diye Manus Samajake Paltiyechhe Menabe Sabhyatar Shurute Chhil Adim Goshthibaddha Samaj AE Samaje Kono Byaktigat Humpty Chhil Na Je Alpa Pariman Sampada Utpadit Hato Tai Bhagabhagi Kare Kono Rakame Kheye Pare Benche Thakto Sekaler Manus Udwritta Sampada Na Thakay Sanchayer Bhabnao Aseni Fale Byaktigat Sampattir Dharnao Aseni Tai Kono Shrenio Chhil Na Kintu Aste Aste Apekshik Arthe Sampader Pariman Barte Thake Kichhu Udwritta Sampada Tairi Hay Are Ekadal Loka Gayer Jore Sei Udwritta Sampada Dakhal Kare Taur Opar Byaktigat Malikana Pratishtha Kare Malikanar Prashnati Chale Asar Par Sampader Malikanake Kendra Kare Samaj Shrenibibhakta Haye Pare Samaje AE Pratham Paraspar Biprit Duti Shrenir Janma Hay Das O Das Malik Shreni Das Samaj Palte Hay SAMANTA Samaj Jekhanay Bhuswami Raja Evan Bhumidas Namer Duti Shrenir Janma Hay SAMANTA Samajer Garbhe Baniki Byabasthar Suchna Hay AE Baniki Byabastha Parabartite Punjibadi Byabasthar Janma Dey Abirbhut Hay Punjir Malik Evan Shramik — AE Duti Shreni AE Samaj Paribartit Haye Ekadin Samyabadi Samaj Pratishthit Habe Je Samaje Kono Shreni Thakbe Na Shreni Baishamya Thakbe Na Thakbe Na Manusher Dwara Manusher Opar Husn Tove Teman Ekati Samaje Jabar Age Manushake Arekati Samajabyabasthar Madhya Diye Jete Habe Jar NAM Samajatantra Samajatantreo Punjibader Mato Shreni Thake Kintu Shrenibaishamya Thake Na Xamatay Thake Sankhyagarishtha Shramik Krishak Shreni Samajatantrake Bala Hay Punjibad Theke Samyabade Jabar Antarbartikalin Byabastha Bastujagt O Samaj Paribartaner Nana Byakhya Bishleshan Niye Prithibir Darshanikder Madhye Etadin Dhare Je Aspashtata Dhonyasha Chhil Markasabadi Darshan Take Dur Kare Dil Makarsabadai Pratham Itihaser Bigyanasammat Byakhyar Sahajye Dekhalo — Samajbikasher Dharay Kibhabe Paribar Ain Byaktigat Malikana Rashtrer Utpatti Hayechhe Are Sei Rashtra Ja Ec Shreni Kartrik Arek Shrenike Nipirner Jantra Maatr AE Rashtrao Kibhabe Ihitaser Gatipathe Ekadin Bilupta Habe Koun Shreni Ete Agrani Bhumika Palan Karabe — Markasabadai Ekshetre Ekamatra Sathik Pathanirdesh Karechhe Samajatantra Ki Diyechhil Menabe Sabhyatake 1917 Saler Samajtantrik Biplaber Age Rashiya Chhil Bishwer Anunnat Deshgulir Anyatam Biplaber Pareo Xamata Dhare Rakha Suhaj Hayani Taur Janya Ashesh Mulya Dite Hayechhe Biplaber Par 14ti Desh Miley Rashiya Akraman Karechhe 1918 Theke 1921 Saala Parjanta Shudhumatra Grihajuddhatei Byasta Thakte Hayechhe Aare Falashrutite 1921 22 Sale Srishti Hay Bhayabah Durbhiksh Esab Badha Mokabela Kare Bishwer Dwitiya Shilponnat Desh Hisebe Rashiya Danriyechhil 1933 Sale Sangit Sahitya Sthapatya Kheladhula — Sabakichhutei Badhahin Egiye Jete Thake Sobhiyet Yuniyan Sobhiyeter Siksha Chhil Badhyatamulak O Awaitanik Bishwabidyalayer Chhatrader Baton Toh Dite Hatai Na Wrong Beshirbhag Chhatrake Britti Deya Hato Lekhaprar Janya Siksha Sheshe Sakalerai Kajer Byabastha Chhil Baker Samasyake Nirmul Karate Perechhil Sobhiyet Yuniyan Ja Az Parjanta Kono Punjibadi Desh Pareni Shramikder Dine Sarbochch At Ghanta Shram Dite Hato Gare Ta Chhil Saat Ghanta Pratibachhar Tara Betanasah Chhuti Pet Asustha Haleo Puro Majuri Pet Manbik Bikasher Janya Shramik Krishak Samasta Starer Manusher Janya Binodner Ayojan Abarit Karechhil Tader Abasar Katanor Janya Chhil Parjapta Park Thiyetarasah Prayojniya Bandobasta Sobhiyet Yuniyner 185ti JATI O 147ti Bhashar Madhye Konao Ekata Vishesha JATI Ba Bhashar Kritrim Pradhanya Chhil Na Je Sakal Bhashar Lipi Nei Sesakal Bhashar Lipi Tairi Kare Diye Matribhashay Shikshadaner Byabastha Kara Hayechhil Sakal Jatigoshthir Nijaswa Sanskritike Bikshit Karar Janya Utsahit Kara Hayechhil Tai By Prakasher Sankhyao Chhil Sobhiyet Yuniyne Bipul Shudhu Panchabarshiki Parikalpanar Sheshe Sobhiyet Yuniyne Prakashit Baiyer Sankhya Ekatre Inglya Jarmani O Japan Apeksha Bedshee Chhil Samajtantrik Sobhiyet Yuniyan 1952 Theke 1992 Saala Parjanta Nayati Shitkalin Alimpike Angsh Niye 7titei Sarbochch Padak Bijyi Hayechhil Samajatantra Ki Ekata Swairachari Byabastha ‘janaganer Matamter Kono Twakka Kare Na Samajtantrik Samajo — Sampurna Bhool AE Dharna Chale Ashche Bahudin Dhare Samajtantrik Sobhiyete Janapratinidhira Shudhu Nirbachit Haten Ta Nay Jara Tader Vote Diye Nirbachit Karat Tara Jekon Samay Pratinidhider ‘ri Kalo Karate Parat Arthat Pratinidhider Karao Upar Anastha Tairi Hale Bhotarara Take Firiye Nite Parat Taur Badale Anya Kauke Nirbachit Karate Parat Bichar Bibhag Pulish Militari Emanaki Shikshak Parjanta Samasta Padadhikari Nirbachit Haten Sangshlishta Daptare Niyojitder Bhote Eman Byapak Ganatantra Ajaker Kono Punjibadi Deshe Bhabai Jay Na ‘sobhiyet Byabastharo Madhyame Rashiyar Hasn Parichalit Hato A Byabasthata Samparke Dharna Na Thakle Bibhranti Janma Neya Swabhabik Bartamane America Inglya Astreliya Bharatasah Bishwer Jekon Desher Kathai Dhari Na Can Sekhane Je Ganatantra Prachalit Ache Tate Matt Prakasher Katatuku Swadhinata Ache Ganatantrer Je Prathamik Sharta ‘janaganer Matamato — Taur Katatuku Pratifalan Ekhane Ghate AE Deshgulote Taka Xamata Midiyake Kaje Lagiye Xamatar Palabadal Ghate Nirbachan Sekhane Natakamatra Amader Desher Katha Chherei Dilam Ganatantrer ‘tirthasthano Amerikar Nirbachan Amara Dekhchhi Na Kono Chhot Dal Ki Sekhane Nirbachane Danriye Jitte Pare Aare Uttarer Kono Abashyakata Nei Ae Sakal Deshe Ganatantra Bastabe Dwidaliya Swairachari Byabasthai Aneke Baleno AE Duti Dalake Toh Janaganai Vote Diye Nirbachit Karechhe Janaganer Matt Jodi Duti Daler Pakshei Jay Toh Key Karar Ache
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon
500000+ दिलचस्प सवाल जवाब सुनिये 😊

Similar Questions

More Answers


আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক , জীববিজ্ঞানী , নৃতাত্ত্বিক , সমাজবিজ্ঞানী এবং ধ্রুপদী উদারতাবাদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ- হার্বার্ট। স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী” -এই অভিমতটি হল লর্ড অ্যাক্টন ও আলেক্সির। “আইন হল সমাজে প্রতিপত্তিশালী শ্রেণির ইচ্ছার প্রকাশ। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র আইন না ভাঙ্গা, তাঁর আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়া। সত্য পথ ও ভুল পথ এর যে কোন একটা পথকে বেছে নেবার স্বাধীনতা একমাত্র মানুষেরই আছে।জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার ব্যাবহারের জন্য আইন পাস হয়- ১৯৮৭ .... মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু : নুরুল ইসলাম মন্ঞ্জুর জীবে প্রেম করে যে জন, সে জন সেবিছে ঈশ্বর আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার ।
Romanized Version
আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক , জীববিজ্ঞানী , নৃতাত্ত্বিক , সমাজবিজ্ঞানী এবং ধ্রুপদী উদারতাবাদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ- হার্বার্ট। স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী” -এই অভিমতটি হল লর্ড অ্যাক্টন ও আলেক্সির। “আইন হল সমাজে প্রতিপত্তিশালী শ্রেণির ইচ্ছার প্রকাশ। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র আইন না ভাঙ্গা, তাঁর আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়া। সত্য পথ ও ভুল পথ এর যে কোন একটা পথকে বেছে নেবার স্বাধীনতা একমাত্র মানুষেরই আছে।জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার ব্যাবহারের জন্য আইন পাস হয়- ১৯৮৭ .... মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু : নুরুল ইসলাম মন্ঞ্জুর জীবে প্রেম করে যে জন, সে জন সেবিছে ঈশ্বর আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী উক্তিটি কার । Ain O Swadhinata Paraspar Birodhi Uktiti Car Prakhyat Ingrej Darshanik , Jibbigyani , Nritattbik , Samajbigyani Evan Dhrupadi Udartabad O Rashtrabigyaner Anyatam Pradhan Chintabid Herbert Swadhinata O Samya Paraspar Birodhi” AE Abhimatati Hall Lord Aktan O Aleksir “ain Hall Samaje Pratipattishali Shrenir Issar Prakash Arthat Allah‌r Ain Na Bhanga Tanr Ain O Swadhinata Paraspar Birodhi Uktiti Car Issar Biruddhe Na Jawa SATHYA Path O Bhool Path Aare Je Koun Ekata Pathake Bechhe Neighbor Swadhinata Ekamatra Manusherai Ache Jatiya Sansade Bangla Bhashake Jatiya Jibner Sarbastare Ain O Swadhinata Paraspar Birodhi Uktiti Car Byabaharer Janya Ain Pass Hay 1987 .... Muktijuddha Swadhinata O Bangabandhu : Nurul Islam Mannjur Jibe Prem Kare Je John Say John Sebichhe Ishwar Ain O Swadhinata Paraspar Birodhi Uktiti Car
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon

Vokal is India's Largest Knowledge Sharing Platform. Send Your Questions to Experts.

Related Searches:Ain O Swadhinata Paraspar Birodhi Uktiti Car Alochana Kor ,Who Do You Talk To Each Other About Law And Liberty?,


vokalandroid