কে আওয়ামী লীগ গঠন করেন? ...

বাংলাদেশের একটি অন্যতম রাজনৈতিক দল। বর্তমান নাম 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ '। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে— হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। উল্লেখ্য এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানি। উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামক একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর পুরো পাকিস্তানের জন্য দলটির নাম রাখা হয়— 'নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'। এর সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই দলের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি হন- আব্দুল হামিদ খান ভাসানি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শামসুল হক। আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি। তিনি দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি আসাম থেকে চলে আসেন পূর্ববঙ্গে। কেননা, মূল আসাম পাকিস্তানে আসে না। যেমন আসবে বলে তিনি মনে করেছিলেন। আসাম থেকে আসে কেবল গণভোটের মাধ্যমে একটি থানা বাদ দিয়ে বাদবাকি সিলেট জেলা, যা এখন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ। সিলেট নামটি ইংরেজির। সিলেটের বাংলা নাম ছিল শ্রীহট্ট। একটা সময় সিলেটের উত্তরাংশকে বলা হতো গৌড়। মোগল আমলে শ্রীহট্ট ছিল সুবে বাংলার অংশ। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৪ সালে সিলেটকে যোগ করা হয়েছিল আসামের সাথে। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে গঠিত হয় একটি ভিন্ন প্রদেশ, যার রাজধানী হয় ঢাকা। কিন্তু ১৯১২ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ বিলুপ্ত হয়। পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ একত্র হয়ে গঠন হয় বাংলা প্রদেশ। আসাম একটা স্বতন্ত্র প্রদেশ হিসেবে আবার প্রতিষ্ঠা পায়, কিন্তু আসাম স্বতন্ত্র প্রদেশ হলেও এর কোনো হাইকোর্ট ছিল না। আসাম ছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারিক নিয়ন্ত্রণে। আসামের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। আসামের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক। আসামের কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। কলকাতা ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই রফতানি হতো তার বিখ্যাত চা। আসামের কাছার জেলার ভাষা বাংলা। ধুবরি ও গোয়ালপাড়ার ভাষা হলো বাংলা। আসামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ভাবা গিয়েছিল আসাম পুরোটাই আসবে পাকিস্তানে; কিন্তু তা হয় না। ভাসানী হন বিফল মনোরথ। তিনি একসময় সিরাজগঞ্জ থেকে গিয়েছিলেন আসামে। আসামে তিনি হন একজন বিরাট নেতা। কিন্তু সেখান থেকে ১৯৪৭ সালে ফিরে আসেন পূর্ব বাংলায়। ভাসানীর কথা বিশেষভাবে বলতে হচ্ছে, কারণ তিনি গঠন করেন ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ। তিনি বলেন, মুসলিম লীগ হয়ে পড়েছে একটা বড়লোকের দল। তা দেখছে না গরিবের স্বার্থ। তাই তিনি গড়ছেন গরিবের স্বার্থ রক্ষার জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগ। উল্লেখ্য, ‘আওম’ শব্দটা আরবি। শব্দগত অর্থে হলো ‘জনগণ’ বা ‘সর্বসাধারণ’। ভাসানী প্রথম ব্যক্তি, যিনি এ দেশের রাজনীতিতে টেনে আনেন ধনী-গরিবের দ্বন্দ্বমূলক রাজনৈতিক দর্শন। এই ধনী-গরিবের দ্বন্দে¦র দর্শন তিনি লাভ করেছিলেন কমিউনিস্টদের কাছ থেকে। আওয়ামী লীগ গঠন এর নেপথ্যে ছিল এ দেশের সে সময়ের কিছু কমিউনিস্টের ভূমিকা, যারা আওয়ামী মুসলিম লীগকে সামনে রেখে তার মাধ্যমে করতে চেয়েছিলেন তাদের অনুসৃত রাজনীতি। ১৯৫১ সালের ২৪ জানুয়ারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গঠন করেন পকিস্তান জিন্নাহ আওয়ামী লীগ। সোহরাওয়ার্দী সাহেব কোনো দিনই আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেননি। তিনি করেছেন একটি স্বতন্ত্র দল, যাতে ভাসানীর কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু পূর্ব বাংলায় তার ভাবশিষ্যরা, যেমন খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও শেখ মুজিবুর রহমান যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগে। ১৯৫৫ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। যাতে করে অমুসলমানেরাও এই দলে যোগ দিতে পারে। ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন সোহরাওয়ার্দী। ভাসানীর সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয় পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে। সোহরাওয়ার্দী চান পাকিস্তান থাকবে মার্কিন ব্লকে। কিন্তু ভাসানী সেটি চাননি। আওয়ামী লীগে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ সদস্যই সমর্থন করেন সোহরাওয়ার্দীর নীতিকে। ফলে ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি ১৯৫৭ সালের ২৭ জুলাই গড়েন এক নতুন দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ। সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেন হাওয়ারের সঙ্গে এক যুক্ত ইশতেহারে বলেন, স্বাধীন বিশ্বের জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিজম একটি ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে উঠেছে। ১৯৫৭ সালের ১১ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দীর প্রধানমন্ত্রিত্ব শেষ হয়। ১৯৫৮ সালে সেনাপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান গ্রহণ করেন পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা। তিনি দেশে চালু করেন মৌলিক গণতন্ত্র। ঘটান পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার বিলুপ্তি। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বৈরুতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্তেকাল করেন। জিন্নাহ আওয়ামী লীগ বলে কোনো দল আর থাকে না। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন। আওয়ামী লীগ যদিও ছিল জিন্নাহ আওয়ামী লীগ থেকে আলাদা একটি দল, কিন্তু ভাসানীর পদত্যাগের পর তা কার্যত পরিচালিত হচ্ছিল সোহরাওয়ার্দীরই পরামর্শে। এসব কথা আমি বলছি, কারণ আওয়ামী লীগ ৭০ বছর বয়সে পদার্পণ করল। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে ঠিক একটা দল ছিল, তা-ও আবার নয়। এতে চলেছিল সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানীর দ্বৈত নেতৃত্ব। ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ছিল না কোনো চিন্তা-চেতনার ঐক্য। আজকের আওয়ামী লীগ আর অতীতের আওয়ামী লীগকে তাই ঠিক এক করে দেখা যায় না। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে বহু ঘটনাকেই ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট কঠিন। ১৯৬০-এর দশকে পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পপতি ইউসুফ হারুন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেন তার আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শাখা। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে করেন এই শাখার ব্যবস্থাপক। ইউসুফ হারুন এই সময় হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের প্রতি একজন খুবই সহানুভূতিসম্পন্ন ব্যক্তি। জনরব, ইউসুফ হারুনের অনুদানে চলেছিল এ সময় পুরো আওয়ামী লীগ। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ইউসুফ হারুনকে করেন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর। ইউসুফ হারুন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর হয়ে নাকি শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রস্তাব করেন, তিনি যদি অইয়ুব খানকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেন, তবে আইয়ুব খান পাকিস্তানে আবার পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের প্রবর্তন করবেন। আর শেখ মুজিবুর রহমানকে করবেন তার প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এটা হতে পারে না। কেননা, সেনাবাহিনীতে এ সময় ছিল জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিশেষ প্রভাব। তারা এটা হতে দেয় না।
Romanized Version
বাংলাদেশের একটি অন্যতম রাজনৈতিক দল। বর্তমান নাম 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ '। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে— হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। উল্লেখ্য এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানি। উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামক একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর পুরো পাকিস্তানের জন্য দলটির নাম রাখা হয়— 'নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'। এর সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই দলের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি হন- আব্দুল হামিদ খান ভাসানি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শামসুল হক। আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি। তিনি দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি আসাম থেকে চলে আসেন পূর্ববঙ্গে। কেননা, মূল আসাম পাকিস্তানে আসে না। যেমন আসবে বলে তিনি মনে করেছিলেন। আসাম থেকে আসে কেবল গণভোটের মাধ্যমে একটি থানা বাদ দিয়ে বাদবাকি সিলেট জেলা, যা এখন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ। সিলেট নামটি ইংরেজির। সিলেটের বাংলা নাম ছিল শ্রীহট্ট। একটা সময় সিলেটের উত্তরাংশকে বলা হতো গৌড়। মোগল আমলে শ্রীহট্ট ছিল সুবে বাংলার অংশ। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৪ সালে সিলেটকে যোগ করা হয়েছিল আসামের সাথে। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে গঠিত হয় একটি ভিন্ন প্রদেশ, যার রাজধানী হয় ঢাকা। কিন্তু ১৯১২ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ বিলুপ্ত হয়। পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ একত্র হয়ে গঠন হয় বাংলা প্রদেশ। আসাম একটা স্বতন্ত্র প্রদেশ হিসেবে আবার প্রতিষ্ঠা পায়, কিন্তু আসাম স্বতন্ত্র প্রদেশ হলেও এর কোনো হাইকোর্ট ছিল না। আসাম ছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারিক নিয়ন্ত্রণে। আসামের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। আসামের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক। আসামের কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। কলকাতা ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই রফতানি হতো তার বিখ্যাত চা। আসামের কাছার জেলার ভাষা বাংলা। ধুবরি ও গোয়ালপাড়ার ভাষা হলো বাংলা। আসামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ভাবা গিয়েছিল আসাম পুরোটাই আসবে পাকিস্তানে; কিন্তু তা হয় না। ভাসানী হন বিফল মনোরথ। তিনি একসময় সিরাজগঞ্জ থেকে গিয়েছিলেন আসামে। আসামে তিনি হন একজন বিরাট নেতা। কিন্তু সেখান থেকে ১৯৪৭ সালে ফিরে আসেন পূর্ব বাংলায়। ভাসানীর কথা বিশেষভাবে বলতে হচ্ছে, কারণ তিনি গঠন করেন ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ। তিনি বলেন, মুসলিম লীগ হয়ে পড়েছে একটা বড়লোকের দল। তা দেখছে না গরিবের স্বার্থ। তাই তিনি গড়ছেন গরিবের স্বার্থ রক্ষার জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগ। উল্লেখ্য, ‘আওম’ শব্দটা আরবি। শব্দগত অর্থে হলো ‘জনগণ’ বা ‘সর্বসাধারণ’। ভাসানী প্রথম ব্যক্তি, যিনি এ দেশের রাজনীতিতে টেনে আনেন ধনী-গরিবের দ্বন্দ্বমূলক রাজনৈতিক দর্শন। এই ধনী-গরিবের দ্বন্দে¦র দর্শন তিনি লাভ করেছিলেন কমিউনিস্টদের কাছ থেকে। আওয়ামী লীগ গঠন এর নেপথ্যে ছিল এ দেশের সে সময়ের কিছু কমিউনিস্টের ভূমিকা, যারা আওয়ামী মুসলিম লীগকে সামনে রেখে তার মাধ্যমে করতে চেয়েছিলেন তাদের অনুসৃত রাজনীতি। ১৯৫১ সালের ২৪ জানুয়ারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গঠন করেন পকিস্তান জিন্নাহ আওয়ামী লীগ। সোহরাওয়ার্দী সাহেব কোনো দিনই আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেননি। তিনি করেছেন একটি স্বতন্ত্র দল, যাতে ভাসানীর কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু পূর্ব বাংলায় তার ভাবশিষ্যরা, যেমন খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও শেখ মুজিবুর রহমান যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগে। ১৯৫৫ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। যাতে করে অমুসলমানেরাও এই দলে যোগ দিতে পারে। ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন সোহরাওয়ার্দী। ভাসানীর সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয় পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে। সোহরাওয়ার্দী চান পাকিস্তান থাকবে মার্কিন ব্লকে। কিন্তু ভাসানী সেটি চাননি। আওয়ামী লীগে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ সদস্যই সমর্থন করেন সোহরাওয়ার্দীর নীতিকে। ফলে ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি ১৯৫৭ সালের ২৭ জুলাই গড়েন এক নতুন দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ। সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেন হাওয়ারের সঙ্গে এক যুক্ত ইশতেহারে বলেন, স্বাধীন বিশ্বের জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিজম একটি ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে উঠেছে। ১৯৫৭ সালের ১১ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দীর প্রধানমন্ত্রিত্ব শেষ হয়। ১৯৫৮ সালে সেনাপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান গ্রহণ করেন পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা। তিনি দেশে চালু করেন মৌলিক গণতন্ত্র। ঘটান পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার বিলুপ্তি। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বৈরুতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্তেকাল করেন। জিন্নাহ আওয়ামী লীগ বলে কোনো দল আর থাকে না। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন। আওয়ামী লীগ যদিও ছিল জিন্নাহ আওয়ামী লীগ থেকে আলাদা একটি দল, কিন্তু ভাসানীর পদত্যাগের পর তা কার্যত পরিচালিত হচ্ছিল সোহরাওয়ার্দীরই পরামর্শে। এসব কথা আমি বলছি, কারণ আওয়ামী লীগ ৭০ বছর বয়সে পদার্পণ করল। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে ঠিক একটা দল ছিল, তা-ও আবার নয়। এতে চলেছিল সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানীর দ্বৈত নেতৃত্ব। ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ছিল না কোনো চিন্তা-চেতনার ঐক্য। আজকের আওয়ামী লীগ আর অতীতের আওয়ামী লীগকে তাই ঠিক এক করে দেখা যায় না। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে বহু ঘটনাকেই ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট কঠিন। ১৯৬০-এর দশকে পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পপতি ইউসুফ হারুন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেন তার আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শাখা। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে করেন এই শাখার ব্যবস্থাপক। ইউসুফ হারুন এই সময় হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের প্রতি একজন খুবই সহানুভূতিসম্পন্ন ব্যক্তি। জনরব, ইউসুফ হারুনের অনুদানে চলেছিল এ সময় পুরো আওয়ামী লীগ। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ইউসুফ হারুনকে করেন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর। ইউসুফ হারুন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর হয়ে নাকি শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রস্তাব করেন, তিনি যদি অইয়ুব খানকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেন, তবে আইয়ুব খান পাকিস্তানে আবার পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের প্রবর্তন করবেন। আর শেখ মুজিবুর রহমানকে করবেন তার প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এটা হতে পারে না। কেননা, সেনাবাহিনীতে এ সময় ছিল জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিশেষ প্রভাব। তারা এটা হতে দেয় না।Bangladesher Ekati Anyatam Rajnaitik Dal Bartaman NAM Bangladesh Awami League 1949 Khrishtabder 23 June Dhakar Tikatulir KM Das Laen Roder Rose Garden Pyalese— Hossain Shahid Sohrawardi O Aavula Hashemer Netritbadhin Ttkalin Bangiya Pradeshik Muslim Liger Ekangsher Sammelan Anushthit Hya Sabhay Sabhaptitba Curren Ataur Rahaman Khan Ullekhya AE Sammelane Pradhan Atithi Chhilen Abdul Hamid Khan Bhasani Ukta Sammelane Upasthit Sadasyader Sammatite Purba Pakistan Awami Muslim League Namak Ekati Rajnaitik Dal Pratishthit Hya Are Puro Pakistaner Janya Dalatir NAM Rakha Hay— Nikhil Pakistan Awami Muslim League Aare Sabhapati Hahn Hossain Shahid Sohrawardi AE Daler Purba Pakistan Shakhar Sabhapati Hahn Abdul Hamid Khan Bhasani Evan Sadharan Sampadak Nirbachit Hahn Samsul Haque Abadul Hamid Khan Bhasani Chhilen Asam Muslim Liger Sabhapati Tini Dwijatitattber Bhittite Pakistan Pratishthar Andolane Shukriya Bhumika Palan Karechhilen Pakistan Pratishthit Hwar Par Tini Asam Theke Chale Asen Purbabange Kenna Mul Asam Pakistane Ase Na Jeman Asabe Ble Tini Money Karechhilen Asam Theke Ase Cable Ganabhoter Madhyame Ekati Thaana Baad Diye Badbaki Silet Jela Ja Ekhan Bangladesher Silet Bibhag Silet Namti Ingrejir Sileter Bangla NAM Chhil Shrihatta Ekata Camay Sileter Uttarangshake Bala Hato Gowda Mugla Amole Shrihatta Chhil Sube Banglar Angsh British Shasnamle 1874 Sale Siletake Jog Kara Hayechhil Asamer Sathe 1905 Sale Purbabanga O Asam Niye Gathit Hya Ekati Bhinna Pradesh Jar Rajdhani Hya Dhaka Kintu 1912 Sale Purbabanga O Asam Pradesh Bilupta Hya Purbabanga O Pashchimabanga Ekatra Huye Gathan Hya Bangla Pradesh Asam Ekata Swatantra Pradesh Hisebe Abar Pratishtha Pay Kintu Asam Swatantra Pradesh Haleo Aare Kono Haikorta Chhil Na Asam Chhil Kolkata Haikorter Bicharik Niyantrane Asamer Kono Bishwabidyalay Chhil Na Asamer Shikshabyabastha Niyantrit Hato Kolkata Bishwabidyalay Kartrik Asamer Kono Samudrabandar Chhil Na Kolkata O Chattagram Bandar Diyei Rafatani Hato Taur Bikhyat Chau Asamer Kachhar Jelar Bhasha Bangla Dhubri O Gwalparar Bhasha Holo Bangla Asamer Bistirna Anchaler Manus Bangla Bhashay Katha Ble Bhaba Giyechhil Asam Purotai Asabe Pakistane Kintu Ta Hya Na Bhasani Hahn Bifal Manorath Tini Ekasamay Sirajaganj Theke Giyechhilen Asame Asame Tini Hahn Ekajan Birat Neta Kintu Sekhan Theke 1947 Sale Fire Asen Purba Banglay Bhasanir Katha Bisheshbhabe Volte Hachchhe Karan Tini Gathan Curren 1949 Saler 23 June Awami Muslim League Tini Baleno Muslim League Huye Parechhe Ekata Baraloker Dal Ta Dekhchhe Na Gariber Swartha Tai Tini Garachhen Gariber Swartha Rakshar Janya Awami Muslim League Ullekhya ‘aomo Shabdata Aruvi Shabdagat Arthe Holo ‘janagano Ba ‘sarbasadharano Bhasani Pratham Byakti Jini A Desher Rajnitite Tene Anen Dhoni Gariber Dwandwamulak Rajnaitik Darshan AE Dhoni Gariber Dwande¦r Darshan Tini Love Karechhilen Kamiunistader Kachh Theke Awami League Gathan Aare Nepathye Chhil A Desher Say Samayer Kichhu Kamiunister Bhumika Jara Awami Muslim Ligke Samne Rekhe Taur Madhyame Karate Cheyechhilen Tader Anusrit Rajniti 1951 Saler 24 Januyari Hossain Shahid Sohrawardi Gathan Curren Pakistan Jinnah Awami League Sohrawardi Saheb Kono Dinai Awami Muslim Lige Jog Danny Tini Karechhen Ekati Swatantra Dal Jate Bhasanir Kono Bhumika Chhil Na Kintu Purba Banglay Taur Bhabshishyara Jeman Khandoker Moshtak Ahmeda O Shekh Mujibur Rahaman Jog Diyechhilen Awami Muslim Lige 1955 Saler 23 Aktobar Awami Muslim League Theke ‘muslimo Shabdati Baad Dea Hya Jate Kare Amusalamanerao AE Dale Jog Dite Pare 1956 Saler 12 Septembar Pakistaner Pradhanamantri Hahn Sohrawardi Bhasanir Sange Sohrawardir Tibra Matabirodh Srishti Hya Pararashtraniti Niye Sohrawardi Sun Pakistan Thakbe Markin Blake Kintu Bhasani Seti Sanny Awami Lige Bishayati Niye Jatheshta Alochana Hya Awami Liger Beshir Bhag Sadasyai Samarthan Curren Sohrawardir Nitike Fale Bhasani Awami League Theke Padatyag Karate Badhya Hahn Tini 1957 Saler 27 Gooli Garen Ec NATUN Dal Nyashanal Awami Party Ba Nap Sohrawardi Pradhanamantri Hwar Par Markin Juktarashtre Safare Jeye Markin Presidenta Aijen Hawarer Sange Ec Jukta Ishatehare Baleno Sweden Bishwer Janya Antarjatik Kamiunijam Ekati Bhayankar Humki Huye Uthechhe 1957 Saler 11 Aktobar Sohrawardir Pradhanamantritba Sesh Hya 1958 Sale SENAPATI Mohammad Aiyub Khan Grahan Curren Pakistaner Shasanakshamata Tini Deshe Chalu Curren Maulik Ganatantra Ghatan Parlamentari Byabasthar Bilupti 1963 Saler 5 Disembar Bairute Hossain Shahid Sohrawardi Intekal Curren Jinnah Awami League Ble Kono Dal Are Thake Na Shekh Mujibur Rahaman Awami Liger Netritbe Asen Awami League Jadio Chhil Jinnah Awami League Theke Alada Ekati Dal Kintu Bhasanir Padatyager Par Ta Karjat Parichalit Hachchhil Sohrawardirai Paramarshe Esab Katha Aami Balachhi Karan Awami League 70 Bachhar Bayase Padarpan Karal Kintu Awami League Je Thik Ekata Dal Chhil Ta O Abar Noy Ete Chalechhil Sohrawardi O Bhasanir Dwait Netritba Bhasani O Sohrawardir Madhye Chhil Na Kono Chinta Chetnar Aikya Ajaker Awami League Are Atiter Awami Ligke Tai Thik Ec Kare Dekha Jay Na Awami Liger Itihase Bahu Ghatanakei Byakhya Kara Jatheshta Kathin 1960 Aare Dashake Pashchim Pakistaner Shilpapati Yusuf Harun Bangladeshe Pratishtha Curren Taur Alpha Insyurens Kompanir Shakha Tini Shekh Mujibur Rahamanke Curren AE Shakhar Byabasthapak Yusuf Harun AE Camay Huye Othen Awami Liger Prati Ekajan Khubai Sahanubhutisampanna Byakti Janarab Yusuf Haruner Anudane Chalechhil A Camay Puro Awami League Presidenta Aiyub Khan Yusuf Harunake Curren Pashchim Pakistaner Gov Yusuf Harun Pashchim Pakistaner Gov Huye Naki Shekh Mujibur Rahamanke Prastab Curren Tini Jodi Aiyub Khanke Xamatay Thakte Sahajya Curren Tove Aiyub Khan Pakistane Abar Parlamentari Ganatantrer Prabartan Karaben Are Shekh Mujibur Rahamanke Karaben Taur Pratham Pradhanamantri Kintu Etah Hate Pare Na Kenna Senabahinite A Camay Chhil Julfikar Ali Bhuttor Vishesha Prabhab Tara Etah Hate Dey Na
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon
500000+ दिलचस्प सवाल जवाब सुनिये 😊

Similar Questions

More Answers


আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এই রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী কালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠার পর এই সংগঠনটির নামাকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট-সরকার গঠন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ও শোষণের ফলস্বরূপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩০টি আসন লাভ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।
Romanized Version
আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এই রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী কালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠার পর এই সংগঠনটির নামাকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট-সরকার গঠন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ও শোষণের ফলস্বরূপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩০টি আসন লাভ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।Awami League Ekati Aitihyabahi Evan Bartaman Xamatasin Rajnaitik Dal AE Rajnaitik Dalatir Gorapattan Hay 23 June 1949 Khristabde Purba Pakistan Awami Muslim League Pratishthar Madhya Diye Parabarti Kalle Aare NAM Chhil Nikhil Pakistan Awami League 1970 Saala Theke Aare Nirbachani Pratik Nauka Bangladesher Swadhinata Juddhe 1971 Sale Sweden Rashtra Hisabe Pratishthar Par AE Sangathanatir Namakaran Kara Hay Bangladesh Awami League Awami League Pratishthar Par Theke 1954 Saler Juktafranta Sarkar Gathan Kare 1970 Saler Nirbachane Awami League 169 Asaner Madhye 167ti Asane Jayalabh Kare Kintu Pakistani Shasakader Swairatantrik Manobhab O Shoshner Falaswarup 1971 Sale Swadhinata Labher Par Awami League Sarkar Gathan Kare Bangabandhu Hatyakander Par Dirgh Sangram Kare 1996 Sale Sarkar Gathan Kare 2008 Saler 29 Disembar 9m Jatiya Sansad Nirbachane 230ti Asana Love Shekh Hasinar Netritbe Bangladesh Awami League Ekk Sankhyagarishthata Arjan Kare Sarkar Gathan Kare
Likes  0  Dislikes
WhatsApp_icon

Vokal is India's Largest Knowledge Sharing Platform. Send Your Questions to Experts.

Related Searches:Ke Awami League Gathan Koren,Who Formed Awami League?,


vokalandroid